কুড়িগ্রামে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে গরুর হাট

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৫, ২১:১৬

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে কুড়িগ্রামে জেলার গবাদি পশুর হাটগুলো শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে। সীমান্তবর্তী হাটগুলোতে ভারতীয় গরু তেমন একটা না আসায় কৃষক ও খামারিরা এবারে কিছুটা লাভের মুখ দেখার সম্ভাবনা দেখছেন। বিভিন্ন হাটে বড় গরুর চেয়ে মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। বড় সাইজের গরুগুলি বাইরে থেকে আসা বড় ব্যবসায়ীরা ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পশুর হাট গুলি সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি সেনাবাহিনীও টহলে রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীদের আনাগোনা দেখা গেছে কুড়িগ্রামের যাত্রাপুর, মোগলবাসা হাট, উলিপুর, ভুরুঙ্গামারী, কাঁঠালবাড়ীসহ বিভিন্ন হাটে। কুড়িগ্রাম জেলায় এবারে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে মোট ২৯টি কোরবানির গবাদি পশুর হাট বসেছে। দিন যতই যাচ্ছে গরুর দাম ও চাহিদা বাড়ছে। কুড়িগ্রামের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপুর হাটে কয়েক হাজার গরুর আমদানি হয়।

বড় ব্যবসায়ী  ও খামারিরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে গো খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় গরু পালনে ব্যয় বেড়েছে। তাই গরু গুলির দাম বেশ বেশী হাঁকতে হচ্ছে।

যাত্রাপুর হাটের গরু বিক্রেতারা জানান, এবারে গরুর দাম কিছুটা কম। এক লাখ টাকার গরু ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অপরদিকে ক্রেতারা বলছেন, গরুর দাম অনেকটাই বেশী। নির্ধারিত বাজেটের চেয়ে অন্তত ৮-১০ হাজার টাকা বেশি দিয়ে ক্রয় করতে হচ্ছে।

যাত্রাপুর হাটের ইজারদার রহিম উদ্দিন হায়দার রিপন জানান, হাটে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই ভালো। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ প্রশাসন ও সেনাবাহিনী সব সময় তদারকি করছে।

ব্যাংক কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া সুমন জানান, কুড়িগ্রাম জেলার ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপুর হাটে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় এসেছি। জাল নোট সনাক্ত করতেই এই হাটেই বসেছি। ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ যেন প্রতারণার স্বীকার না হয়।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে ২৯টি পশু হাট রয়েছে। এবার জেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ২ লাখ ৮০ হাজার ৪৮৬টি প্রস্তুত রয়েছে। আর চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৮০টি। উদ্বৃত্ত পশুর সংখ্যা ৫৭ হাজার ৬৪৬টি। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে জেলার ৯ উপজেলায় ভেটেরিনারি টিম গঠন করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানা জানান, পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন উপজেলার স্থায়ী ও অস্থায়ী গরুর হাট বসেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোসহ জাল নোট সনাক্ত, চুরি কিংবা অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএএস