[ হুজুগবাদী তস্করদের হাতে নিহত দুঃখবতী
মা রেণুর অসহায় শিশুসন্তানদের প্রতি ]
তুবা তোমায় সান্ত্বনা দিই এমন সাহস নেই
তোমার কচি মুখটা দেখে হারিয়ে ফেলি খেই।
তোমার প্রিয় মামণিটা জনম-দুখিনি...
তাঁর বেদনা মুছিয়ে দিতে আমরা ঝুঁকিনি...
তোমরা দুটি সোনামণি ছিলে প্রাণের ধন...
মায়ের চোখের স্বপ্ন হয়ে দুলতে সারাক্ষণ...
নিঠুর পিতা সুখের খোঁজে পালিয়ে গিয়েছে...
মা তোমাদের বুকের মাঝে আগলে নিয়েছে।
তুবা তুমি তাকিয়ে আছ মায়ের অপেক্ষায়...
মা এসে ঠিক হাত বাড়িয়ে বলবে কাছে আয়...
মায়ের হাতের আদর পেয়ে বইবে সুখের ঢেউ...
ভাববে তখন মায়ের মতো হয় না আপন কেউ।
তুবা তুবা ছোট্ট তুবা, কেমন করে কই—
জানোই তুমি মা গিয়েছে কিনতে তোমার বই...
দেখতে গেছে কোথায় তোমায় ভর্তি করা যায়...
বিদ্যা শিখে তোমরা আলো জ্বালবে বসুধায়।
তুবা তোমায় এই কথাটা জানানো দরকার—
তোমার প্রিয় মামণিটা ফিরবে না তো আর।
দুঃখময়ী মা তোমাদের আনতে গিয়ে সুখ—
দেখিয়ে গেলেন এই সমাজের বর্বরতার মুখ।
পাষণ্ডদের বলি হলেন দুঃখবতী মেয়ে...
অসভ্য এই মূর্খ সমাজ দেখল চেয়ে চেয়ে।
ছোট্ট কচি মুখ দুটি আজ কোথায় পাবে ঠাঁয়...
মা হারিয়ে বাঁচবে এখন কাদের ভরসায়?
