ঈদুল আজহার দিন রাজধানী ঢাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য ১২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। এই কাজে নিয়োজিত থাকবে ২০ হাজারের বেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী। কোরবানির দিন (৭ জুন) বিকেল ৩টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি হটলাইন চালু থাকবে এবং ইতোমধ্যে প্রায় ১৩ লাখ ৯০ হাজার প্লাস্টিক ও বায়ো-ডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে।
ডিএসসিসির প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া জানান, পশুর হাট এবং কোরবানির বর্জ্য তদারকির জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের তদারকি পরিষদ গঠন করা হয়েছে। কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ডিএসসিসির নিজস্ব ২০৭টি ডাম্প ট্রাক, ২০০টি মিনি ট্রাক, ৪৪টি কম্পেক্টর, ৩৯টি কনটেইনার ক্যারিয়ারসহ একাধিক ভারী যান ও যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এছাড়া পাঁচ হাজার ৯৫৩ জন স্থায়ী কর্মী, চার হাজার ৭০০ জন বর্জ্য সংগ্রহকারী এবং পশুর হাটে কর্মরত এক হাজার ৮০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ মোট ১০ হাজার ২৬৭ জন কর্মী মাঠে থাকবে। ইতোমধ্যে ২২২ গ্যালন জীবাণুনাশক ও ৪০ টন ব্লিচিং পাউডার বিতরণ করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও সরবরাহ করা হবে।
বর্জ্য সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য জানাতে এবং পেতে হটলাইন নম্বর দেওয়া হয়েছে—০১৭০৯-৯০০৮৮৮ ও ০২২২ ৩৩৮ ৬০১৪।
ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, এই সিটিতে এবার প্রায় ২০ হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হতে পারে। এ বর্জ্য অপসারণে অন্তত ১০ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করবেন। ২২৪টি ডাম্প ট্রাক, ৩৮১টি পিকআপ, ২৪টি পে-লোডারসহ ভারী যানবাহন সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে।
তিনি জানান, জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডে মাইকিং এবং মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে। বর্জ্য সংগ্রহ শেষে প্রথমে তা স্থানান্তর করা হবে এসটিএসে (সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন), পরে ডাম্পিংয়ের জন্য আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে নেওয়া হবে। পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা প্ল্যাটফর্ম এবং দুটি পরিখা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ডিএনসিসি নগর ভবনে (প্লট-২৩-২৬, সড়ক-৪৬, গুলশান-২) একটি অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। যোগাযোগের জন্য কন্ট্রোল রুম নম্বর— +৮৮০২৫৫০৫২০৮৪ ও ১৬১০৬।
উল্লেখ্য, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে এবার অন্তত সাত লাখ পশু কোরবানি হতে পারে, যা থেকে অর্ধলাখ টন বর্জ্য তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসব বর্জ্য দ্রুত এবং কার্যকরভাবে অপসারণে দুই সিটি কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

