থ্রিজি, ফোরজির যুগ পেরিয়ে ফাইভজি’তে প্রবেশ করতে যাচ্ছে অনেক দেশ। এখনো ফাইভজি নিয়ে কাজ করছে কয়েকটি উন্নত রাষ্ট্র। তবে এর বিপরীত চিত্রও আছে, বিশ্বের অনুন্নত এবং উন্নয়নশীল অনেক দেশের মানুষের কাছেই এখনও ইন্টারনেট ধরাছোঁয়ার বাইরে। জাতিসংঘের এক হিসেব মতে, বর্তমানে বিশ্বের অনেক মানুষের কাছে এখনও ইন্টারনেট সেবা পৌঁছেনি।
তবে এ সকল মানুষের কাছে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছাতে থেমে নেই উদ্যোগ। বিশ্বের নামকরা সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর হাত ধরেই গৃহীত হচ্ছে এই উদ্যোগগুলো। এর মধ্যে আছে ফেসবুক, গুগল, স্পেস এক্স প্রভৃতি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। ইন্টারনেট সেবা নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে সাজানো হয়েছে এ লেখাটি।
গুগল প্রজেক্ট লুন
বিশ্বের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে গুগল কাজ শুরু করেছে। তবে এজন্য গুগলের পরিকল্পনা কিছুটা ভিন্নধর্মী। বেলুনের সাহায্যে গুগল এ কাজটি করেছে। ইতোমধ্যে বিশ্বের কয়েকটি অঞ্চলে গুগলের এই প্রকল্পের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গুগল এই প্রকল্পের নাম দিয়েছে ‘প্রজেক্ট লুন’। সাধারণত কোনো অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা দিতে গেলে বিপুল অবকাঠামোর প্রয়োজন পড়লেও এক্ষেত্রে তেমন কিছুই লাগবে না। কারণ বেলুনেই থাকবে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। এই বেলুন একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ঘুরে বেড়াবে এবং আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করবে। গুগলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বেলুন মাটির ২০ কিলোমিটারের উপরের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার অঞ্চলে অবস্থান করবে। আর একেকটি বেলুন ইন্টারনেট সেবা দিতে পারবে আশেপাশের ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে।
বেলুনটি এতে থাকা যন্ত্রপাতি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুত্ সংগ্রহ করবে সৌরশক্তি থেকে। এ জন্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা। ফলে দিনের পর দিন এটি বাতাসে ভেসে থাকতে পারবে।
ভারতে গুগল লুন প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে ২০১৫ সালের দিকে। আর এ প্রকল্পে দেশটিতে গুগলকে সহায়তা দিয়েছে বিএসএনএল। কারণ গুগলের ইন্টারনেট বেলুনে স্থানীয় কোনো ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান থেকেই ইন্টারনেট সংযোগ দিতে হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গুগল প্রজেক্ট লুন পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছিল নিউজিল্যান্ডে। পরবর্তীতে ব্রাজিলেও সেবাটি চালু করা হয়। এরপর শ্রীলংকা ও ইন্দোনেশিয়ায়ও কাজ শুরু করে প্রজেক্ট লুন।
ফেসবুকের ইন্টারনেট ড্রোন
একবার ভাবুন তো, আকাশে একটি ড্রোন উড়ে বেড়াচ্ছে আর সেখান থেকে সরবরাহ করছে ইন্টারনেট সেবা, তাও আবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। অবাক হচ্ছেন? এমনই এক প্রকল্প চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। এখানেও লক্ষ্য একটাই। আর তা হলো সবার জন্য ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা। এ জন্য ভূমি থেকে প্রায় ৯০ হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থান করবে বিশেষ ড্রোন যা লেজার রশ্মির মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবে ইন্টারনেট। ফেসবুকের এই ড্রোনের নাম অ্যাকুইলা। এর ডানার দৈর্ঘ্য একটি বোয়িং ৭৩৭ বিমানের চেয়েও বেশি। সৌরশক্তির মাধ্যমে বিমানটি আকাশে ভাসমান থাকতে সক্ষম।
ফেসবুকের ড্রোন প্রকল্পের প্রকৌশলী ইয়েল ম্যাগুয়ার বলেন,‘লেজার বিমের মাধ্যমে উচ্চ গতির তথ্য সংযোগের ক্ষেত্রে আমরা একটি মাইলফলক অর্জন করতে পেরেছি যা বর্তমান সময়ে অধিকাংশ ইন্টারনেটের গতির চেয়ে বেশি। যে সব অঞ্চলে ইন্টারনেট প্রয়োজন সেখানে এই ড্রোন এনে ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়া যাবে।’
স্পেস এক্স
ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার জন্য যখন গুগল আর ফেসবুক একের পর এক প্রকল্প হাতে নিচ্ছে, তখন স্পেস এক্সও পিছিয়ে রয়নি। আর তাই গুগলের বিনিয়োগ পাওয়া স্পেস এক্সও, বিশ্বের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা দিতে প্রতিষ্ঠানটি ৭শ স্যাটেলাইট উেক্ষপণ করার ঘোষণা দিয়েছিল ২০১৫ সালে। এই স্যাটেলাইটগুলো তৈরিতে খরচ হবে তুলনামূলক কম এবং আকারেও হবে ছোট। প্রতিটি স্যাটেলাইটের ওজন হবে ২৫০ পাউন্ডেরও কম। ২০১৪ সালের শেষের দিকে এই প্রকল্পের কথা জানান স্পেস এক্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ইলন মস্ক। ইলন মস্কের সাথে এ প্রকল্প নিয়ে জোট বেঁধেছেন গুগলের স্যাটেলাইট বিভাগের সাবেক প্রধান গ্রেগ ওয়েইলার। ইন্টারনেট স্যাটেলাইটের ব্যাপারে ইলন মস্ক জানান, ভূমি থেকে ৭৫০ মাইল উঁচুতে থাকবে এ সকল ইন্টারনেট স্যাটেলাইটের কক্ষপথ। তিনি আরও জানান, সাধারণ অপটিক্যাল ফাইবারের তুলনায় অনেক উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়া যাবে এর মাধ্যমে।
গুগলের ফাইভজি ইন্টারনেট ড্রোন
প্রজেক্ট লুনের বাইরে সম্প্রতি ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার জন্য আরও একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প চালুর ঘোষণা দিয়েছিল গুগল। সার্চ জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ফাইভজি ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার জন্য সৌরশক্তি চালিত সোলারা ৫০ নামের একটি ড্রোন ব্যবহার করবে যা টাইটান অ্যারোস্পেসের তৈরি। যদিও এই প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে কিনে নেয়েছে গুগল।
