জন্মদিন :তরুণ কলাম লেখক ফোরাম

আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৯, ২১:০৮

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তরুণ লেখকদের জন্য  ‘বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম’ নামে  একটি বৃহত্তর প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠেছে। এই ফোরামের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে—তরুণদের লেখালেখিতে উদ্বুদ্ধ করা। যাতে করে তরুণেরা লেখালেখির মাধ্যমে নিজেদের চিন্তাশক্তিকে খুব সহজেই বিকশিত করতে পারে। গত বছরের  এই দিনে অর্থাত্ আজ ২৩ জুলাই এই সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।

বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ৫০০ এর অধিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের ১৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়াও, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ বড় কলেজগুলোতে এ সংগঠনের কার্যক্রম আছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোর সৃজনশীল ও মেধাবীরা এ সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। যাত্রা শুরুর পর থেকে দৈনিক ইত্তেফাকসহ অন্যান্য পত্রিকায় তাদের লেখা প্রকাশিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

একটা সময় ছিল যখন পৃথিবীর সর্বত্রই তলোয়ারের প্রাধান্য ছিল। তলোয়ারের জোরেই পালটে যেত পৃথিবীর অনেক কিছু। যার তলোয়ার যত বেশি ধারালো থাকত, তার ক্ষমতাও থাকত তত বেশি। তলোয়ারের জোরেই ঘটত রাজাদের উত্থান-পতন। সময়ের বিবর্তনে আজ সব কিছুর পরিবর্তন ঘটেছে। কলম আজ তলোয়ারের জায়গা দখল করে নিয়েছে। এখন সারা বিশ্বে চলছে কলমের রাজত্ব। এখন পৃথিবীর সব কিছুর পরিবর্তন হচ্ছে লেখনীশক্তির দ্বারা। যে-দেশের লেখনীশক্তি যত বেশি শক্তিশালী, উন্নয়নের ধারায় সে-দেশ তত বেশি এগিয়ে। বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের প্রায় প্রত্যেক সদস্যই লেখালেখি করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চায়। কেউ লেখক হিসেবে জন্ম গ্রহণ করে না এটি যেমন সত্য, তেমনি নিয়মিত লেখালেখির চর্চা করলে দিন দিন লেখনীশক্তি শানিত হয় সেটিও অসত্য নয়। লেখালেখি এমন একটি শক্তিশালী হাতিয়ার যা কোনো সময় বিপ্লব ঘটাতে পারে। আমরা যখন পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিলাম তখন একজন কাজী নজরুল ইসলামের লেখনীশক্তিই আমাদের প্রেরণা জুগিয়েছিল, তার লেখালেখিই মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিল দেশপ্রেমের চেতনায়। লেখালেখিই জাতির ক্রান্তিকালে দিকনির্দেশকের ভূমিকা পালন করেছিল। শুধু বাঙালি জাতিই নয়, ফরাসি জাতি যখন দ্বিধায় ছিল তখন একজন রুশোর লেখালেখিই তাদের পথ বাতলে দিয়েছিল। লেখালেখি এমন এক ধরনের শক্তি যার দ্বারা সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার খুব সহজেই রোধ করা যায়।

বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত। সারা বিশ্বে বাংলাদেশের এই উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার জানান দিতে হলে লেখালেখির জগতে তরুণদের আরো বেশি এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমানে তরুণ লেখকদের লেখালেখির বৃহত্তম প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম’ এই তরুণদের নিয়েই কাজ করছে। এই ফোরামের সব সদস্য নিজেরা যেমন লেখালেখি করে, তেমনি পাশাপাশি লেখালেখিতে আগ্রহী করে তুলতে অন্য তরুণদেরও উত্সাহিত করছে। আশা করি, যত দিন যাবে লেখালেখিতে তরুণেরা তত বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবে। আগামী দিনে এই তরুণদের সৃষ্টিশীল লেখনীর দ্বারাই বাংলাদেশ সোনার দেশে পরিণত হবে—এটাই প্রত্যাশা করি।

n লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়