চাষিদের মাথায় হাত

শেরপুরে অধিকাংশ সবজিখেত বন্যার পানিতে ডুবে গেছে

আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৯, ২১:৩৪

সবজি এলাকা হিসেবে পরিচিত শেরপুর সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের সিংহভাগ সবজিখেত বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রতিদিন নতুন করে এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বর্তমানে শেরপুর সদরের ১৪ ইউনিয়নই বন্যাকবলিত এলাকা বলে সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে পুরোনো ব্রহ্মপুত্র নদ, মৃগী ও দশআনী নদী সংলগ্ন কামারের চর ইউনিয়ন, চর মুচারিয়া, চর পক্ষীমারী, বলাইর চর, লছমণপুর, বেতমারি-ঘুগড়াকান্দি ও রৌহা ইউনিয়নেই সবচেয়ে বেশি সবজি চাষ হয়ে থাকে। বর্তমানে এসব ইউনিয়নের অধিকাংশ ফসলের খেতই বন্যার পানিতে নিমজ্জিত।

গতকাল রবিবার বন্যাপীড়িত এসব এলাকায় সরেজমিনে দেখতে গেলে স্থানীয় চাষিরা জানান, সবজি আবাদের ওপরই তাদের জীবন জীবিকা নির্ভর করে। কিন্তু আকস্মিক বন্যার পানি তাদের আয়ের উত্স ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন দ্রুত বন্যার পানি সরে গেলেও কোনো লাভ নেই। এসব খেতের সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে বীজ রোপণ ও চারা তৈরি করে লাগাতে হবে। পানিতে অধিকাংশ মাচা (জাংলা) ধ্বংস হয়ে গেছে। এগুলো নতুন করে তৈরি করতে হবে। এ জন্য তাদের বীজ কৃষি উপকরণ ও ঋণের প্রয়োজন।

বেতমারি-ঘুঘরাকান্দি ইউনিয়নের ১৬ বছর আগে একটি বেড়িবাঁধ তৈরি করা হয়েছিল। বাঁধের কারণ তারা নির্বিঘ্নে প্রতি বছর সবজি চাষ করে আসছিলেন। সম্প্রতি বাঁধটির কিছু অংশ ভেঙে যায়। কিন্তু বাঁধটি সংস্কারের জন্য বারবার আবেদন জানিয়েও কোনো ফল হয়নি। দুপক্ষের গাফিলতির কারণে বাঁধ সংস্কার হয়নি। এ বছরের আকস্মিক বন্যায় ভাঙা অংশের প্রায় ২০০ ফুট নতুন করে ভেঙে গিয়ে সবজিসহ অধিকাংশ ফসলের ক্ষেত ভেসে গেছে।

বেতামারী-ঘুঘরাকান্দি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. হাফিজুর রহমান জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় আমরা বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ ধরেছিলাম। বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছিল কিন্তু হঠাত্ প্রবল বেগে বন্যার পানি এসে সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে শেরপুর সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা পিকন কুমার সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এবার সদর উপজেলার ১৫৭৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছিল। এর মধ্যে ২৫০ হেক্টর জমির সবজি সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি এক হাজার হেক্টরের বেশি জমির সবজি বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছে।