রাজস্ব খাত থেকে বেতন প্রদান ও পেনশনের দাবিতে সারাদেশে পৌরসভার কর্মচারীরা ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি আর অন্যরা কর্মবিরতি পালন করার ফলে বিভিন্ন পৌরসভার দাপ্তরিক ও সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে আছে। এতে পৌরবাসীর ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। ইত্তেফাকের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
নোয়াখালী: জেলার ৮টি পৌরসভার দাপ্তরিক ও সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নোয়াখালী পৌরসভায় গিয়ে দেখা যায়, দপ্তরগুলোতে তালা ঝুলছে। জরুরি ও প্রয়োজনীয় সেবা দিতে আসা অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের ভোগান্তি ও হতাশার কথা জনিয়েছেন। কয়েক দিন ধরেই কেউ আসছেন জন্মনিবন্ধন সনদ, নাগরিকত্ব সনদ, মৃত্যুসনদ, ওয়ারিশ সনদ, ট্রেড লাইসেন্স নিতে। আর কেউ এসেছেন জন্ম নিবন্ধন সনদ, ওয়ারিশ সনদ সংশোধন ও ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে। কিন্তু সেবা না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পৌরবাসী। এ অবস্থা জেলার সব পৌরসভার। তবে নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদ উল্যা খান সোহেল জানান, পৌর কর্মকতা-কর্মচারীদের আন্দোলনের কারণে দাপ্তরিক ও অনেক সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মানুষ ভোগান্তির মধ্যে আছেন। এর মধ্যেও তার নিজ উদ্যোগে পৌরবাসীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেবা সুপেয় পানি সরবরাহ ও ময়লা পরিষ্কার-পরিছন্নতা অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে জানান। একইভাবে চৌমুহনী পৌরসভায় সুপেয় পানি সরবরাহ করা হচ্ছে বলে পৌর মেয়র আকতার হোসেন ফয়সল জানান।
রাঙ্গামাটি :পর্যটন শহরে রাতের বেলায় জ্বলছে না পৌর শহরের সড়ক বাতি আর শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলি গলিসহ বাজারগুলোতে জমে গেছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। বেড়েছে মশা-মাছির চরম উপদ্রব। এতে করে একদিকে বাড়ছে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ, অন্যদিকে নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পৌরবাসী।
এ বিষয়ে রাঙ্গামাটি পৌর মেয়র মোঃ আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন, পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম এখন বন্ধ রয়েছে। সকল কর্মচারীরা এখন ঢাকায় অবস্থান করছে। তিনি বলেন, পৌরসভার কর্মচারীরা আন্দোলনের কারণে পৌর শহরে নাগরিক সুযোগ সুবিধা সাময়িক বিঘ্নিত হচ্ছে এবং শহরের ময়লা আবর্জনা বেড়ে গেছে আর এইসব বিষয়ে চিন্তা করে আমি ও প্যানেল মেয়র জামাল উদ্দীনের উদ্যোগে রবিবার থেকে প্রধান সড়কে বিকল্প ব্যবস্থায় ময়লা অপসারণের কাজ শুরু করেছি।
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর): সেবা বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রায়পুর পৌরসভার বাসিন্দারা। পৌরসভাতে এখন তালা ঝুলছে। এতে কোনো সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা। ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করায় পৌর এলাকার অলিগলিতে জমেছে ময়লার স্তূপ। জ্বলছে না সড়কবাতি। নাগরিক সনদ প্রদান, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ দৈনন্দিন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেবাগ্রহীতারা সেবা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। পৌর এলাকার বাসিন্দা প্রবীণ সংবাদিক হারুনুর রশিদ বলেন, পৌরসভার সব ধরনের রায়পুর পৌরসভার মেয়র ইসমাইল খোকন বলেন, কাজ করার মতো কোনো লোক নেই। দিনে কম করে হলেও ২০০/৩০০ লোক আসছেন পৌরসভায়। তাই কোনো কাজ পুরোপুরি সমাধান না করতে পারলেও নিজ উদ্যোগে পানি সরবরাহসহ বিভিন্ন কাজে আমি নিয়মিত অফিস করছি।
