চট্টগ্রামের চাক্তাই খাল ও পতেঙ্গার লালদিয়ারচর এলাকায় গতকাল সোমবার ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। চাক্তাই খালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং পতেঙ্গা লালদিয়ারচরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও দখলদারদের বিরুদ্ধে। উভয় সংস্থার দায়িত্বশীল সূত্রগুলো ইত্তেফাককে এ তথ্য জানায়।
সূত্রগুলো জানায়, চাক্তাই খালের ওপর থেকে পাকা ভবনসহ ৩০০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, লালদিয়ারচরে অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়া ১৫ একর জায়গা উদ্ধার করে সেখানে আমদানি-রপ্তানি পণ্য ল্যান্ডিং, শিপমেন্ট ও হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পরিচালনার লক্ষ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে। এতে অবৈধভাবে তৈরি ১৩০টিরও বেশি পাকা ও আধা পাকা ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।
মহানগরীর চাক্তাই খালের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য গতকাল বেলা ১১টায় সেনাবাহিনীর সহায়তায় সিডিএ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকায় চট্টগ্রাম মহানগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনের ‘মেগা প্রকল্প’ বাস্তবায়নের কাজ করছে সিডিএ।
সিডিএ সূত্রে জানা গেছে, চাক্তাই খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ ক্রমান্বয়ে মহানগরীর ১৩টি খালের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এই অভিযান চলবে আগামী দুই মাস।
উল্লেখ করা যেতে পারে, গত বছরের ৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার অনুমোদিত মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে সিডিএর একটি সমঝোতা-সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সে অনুসারে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর খালের উভয় পাশে রিটেইনিং ওয়াল, সড়ক নির্মাণ ও নিচু ব্রিজগুলো ভেঙে উঁচু করার কাজ শুরু করেছে। সেই সঙ্গে তারা খাল থেকে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজও শুরু করেছে। ডিপিপি অনুযায়ী এই মেগা প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের প্রথম ধাপে ২০১৮ সালে ৩৬টি খালের মাটি অপসারণসহ ৩০০ কিলোমিটার নতুন ড্রেন নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এছাড়া প্রকল্পের অধীনে নতুন করে ১০০ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ, ২০২০ সালের মধ্যে নগরে ৩৬টি খাল খনন, খালের পাশে ১৭৬ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল, ৮৫ কিলোমিটার সড়ক, ৪২টি সিল্ট ট্র্যাপসহ বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করার কথাও রয়েছে।
