জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে এখন আর বেশি গুরুত্ব দিতে চান না এর আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিসহ কয়েকটি দলকে নিয়ে গঠিত ঐক্যফ্রন্ট সম্পর্কে গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল বলেছেন, ‘ওইটা তো একটা ইলেকশনকে কেন্দ্র করে হয়েছিল। এই বিষয়ে তো আমি মনে করি ঐক্যফ্রন্ট না; আসল ঐক্য দরকার, জনগণের ঐক্য করা দরকার। কয়েকটা দলের ঐক্য না, সারা দেশের ঐক্যকে আমি বেশি গুরুত্ব দিতে চাই।’
দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান বন্যা পরিস্থিতি ও রাজনীতি নিয়ে গণফোরাম এই সংবাদ সম্মেলনে আয়োজন করে। ঐক্যফ্রন্টকে বন্যার্তদের পাশে দেখা না যাওয়া সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ফ্রন্ট সম্পর্কে নিজের এই অবস্থান জানিয়ে দেন ড. কামাল। ঐক্যফ্রন্টে টানাপোড়েন প্রসঙ্গে এর আহ্বায়ক বলেন, ‘মূল লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ঐক্যফ্রন্ট হয়েছিল। সে মূল লক্ষ্য তো আমাদের থাকবেই। ওটা ইলেকশনের ব্যাপারে একটা উদ্যোগ ছিল। এখন এই ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আরো গুরুত্বপূর্ণভাবে ঐক্য গড়তে হবে।’
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় একে অন্যকে দোষারোপ না করে সমস্যা চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়ে ড. কামাল বলেন, দোষারোপ না করে কোথায় ঘাটতি তা বের করা দরকার। দলীয় সংকীর্ণতায় থেকে পালটাপালটি দোষারোপ করলে সমস্যার সমাধান হবে না। দোষারোপই চলতে থাকবে। জনগণকে সচেতন করা ও সঠিক তথ্য দেওয়া হচ্ছে সবচেয়ে বড় কাজ।
তিনি বলেন, দেশে কার্যকর গণতন্ত্র নেই। দেশ শাসন করতে নাগরিকদের ভূমিকা থাকে। সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও ভূমিকা পালন করতে হয়। এককভাবে সরকারের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব না। বন্যা প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বলেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে সবাইকে নিয়ে বসা দরকার। সেটা কি হয়েছে? দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে মতবিনিময় করা দরকার। তথ্য এক জায়গায় এনে মূল্যায়ন করা জরুরি।
বন্যা মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে জাতীয় সংলাপ প্রয়োজন মনে করেন কি না, প্রশ্ন করা হলে ড. কামাল বলেন, অবশ্যই একটি জাতীয় সংলাপ অপরিহার্য মনে করি, বন্যার জন্য। বন্যা থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মানুষকে সচেতন করতে হবে। ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করতে হবে। বন্যাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। বন্যার শিকার থেকে মানুষকে বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দেশে ঐকমত্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন গণফোরাম সভাপতি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। এতে বলা হয়, পর্যাপ্ত ত্রাণ এখনো বন্যাকবলিত মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে অনেক বরাদ্দ থাকলেও বন্যা নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো কাজ হয়নি। বন্যা নিয়ন্ত্রণের নামে লুটপাট হয়েছে। আবু সাইয়িদ বলেন, ১৭ জুলাই থেকে গণফোরামের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমসা আমিন কুড়িগ্রামে ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাদ্য, জরুরি ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা; সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে ত্রাণ কার্যক্রম চালানো, জবাবদিহির ভিত্তিতে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা, বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা এবং পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পানি ও নদী ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব উপস্থাপন করে গণফোরাম। সংবাদ সম্মেলনে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, মোহসীন রশীদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
