গল টেস্টে পার্থক্য গড়তে পারেন স্পিনাররা

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৫, ১৪:১৭

গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম- যেখানে উইকেট এক কথায় স্পিনারদের স্বর্গ। বছরের পর বছর ধরে এই মাঠে একাধিক ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছেন স্পিনাররা। ম্যাচের শেষের দিকে এই পিচে টার্ন বাড়ে, সঙ্গে থাকে অসম বাউন্স, যা প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের জন্য হয়ে ওঠে দুঃস্বপ্ন, আর স্পিনারদের জন্য স্বপ্নপূরণের উপলক্ষ্য। পরিসংখ্যানও বলছে, সেই কথাই। 

গলের ৪৮টি টেস্টে পেসারদের তুলনায় স্পিনাররা নিয়েছেন বেশি উইকেট। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও স্পিনারদের জন্য দারুণ এক টেস্ট হতে চলেছে- এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে দুই দলের স্কোয়াড গঠন ও প্রস্তুতি। আগামীকাল মাঠে গড়াবে গল টেস্ট। তার আগে আজ শেষ দিনের অনুশীলন সারবে দুই দল।

গলের স্পিনবান্ধব উইকেটের কারণে বাংলাদেশও স্পিন নির্ভর পরিকল্পনা সাজিয়েছে। মূল স্কোয়াডে রাখা হয়েছে পাঁচ স্পিন বোলিং বিকল্প, যার মধ্যে তিন জন মূল স্পিনার-তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান ও হাসান মুরাদ। তবে ম্যাচের ঠিক আগের দিন অনুশীলনে নামতে পারেননি দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ স্পিন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। জ্বরে ভুগছেন তিনি, ফলে প্রথম টেস্টে তার খেলা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। তার অনুপস্থিতিতে দলে জায়গা পেলে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হতে পারে হাসান মুরাদ বা নাঈম হাসানকে। পাশাপাশি বিকল্প স্পিনার হিসেবে বিবেচনায় থাকবেন সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক সৌরভ, যিনি মাঝেমধ্যে বল হাতে ঝলক দেখাতে পারেন।

বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স গতকাল স্পষ্ট করে দিয়েছেন, উইকেট দেখে তাদের স্পিন পরিকল্পনা আরো জোরদার হয়েছে। তিনি বলেছেন, 'উইকেটটা দেখতে ভালোই লাগছে। আগামীকাল আরেকটু রোল আর কাট হলে আসল চেহারা বোঝা যাবে। এখানে সব সময়ই স্পিন ধরে, প্রশ্নটা এবার সেটি কতটা ধরবে।' 

মিরাজের অসুস্থতা নিয়ে জানতে চাইলে সিমন্স বলেন, 'এটা নিশ্চয়ই চিন্তার বিষয়। তবে একজনের সমস্যা আরেক জনের জন্য সুযোগ এনে দেয়। সবাই চায় মিরাজ দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক, কিন্তু যদি সেটা না হয়, তাহলে অন্য কাউকে প্রস্তুত থাকতে হবে। এটা সমস্যা, তবে সমস্যাটা মধুর।'

শ্রীলঙ্কাও তাদের স্কোয়াড সাজিয়েছে স্পিন আধিপত্যকে মাথায় রেখে। তাদের ঘোষিত ১৮ সদস্যের দলে অন্তত সাত জন স্পিনার রয়েছেন, যা প্রমাণ করে গলের স্পিনবান্ধব উইকেটের প্রতি তাদের আস্থা। ফলে দুই দলেরই স্পিনারদের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে ম্যাচের মোড় কোন দিকে ঘুরবে। তবে বাংলাদেশ বোলিংয়ে আশা জাগালেও ব্যাটিংয়ে বেশ নড়বড়ে অবস্থানে রয়েছে। বোলাররা তাদের কাজটি ঠিকভাবে করলেও ব্যাটারদের কারণে বেশির ভাগ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে টাইগার বাহিনী।

বাংলাদেশ শিবিরে আছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। সিমন্স তার প্রশংসা করে বলেন, 'আমি চাই সে যেন খেলাটা উপভোগ করে। এর আগে (শ্রীলঙ্কায় ২০০ রানের ইনিংস) যেমন সে আনন্দ নিয়ে খেলেছিল, এবারও যেন সেটাই করে, তার কাছ থেকে এতটুকুই চাওয়া। মুশফিকের কাছে আলাদা কোনো প্রত্যাশা নেই। তবে সব খেলোয়াড়ের কাছেই আমার চাওয়া একই থাকবে।'

বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স।

সম্প্রতি ওয়ানডে অধিনায়কত্বে পরিবর্তন এনে বিসিবি মিরাজকে দিয়েছে নতুন দায়িত্ব। এতে টেস্ট ফরম্যাটে নাজমুল হোসেন শান্তর পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন সিমন্স। তার ভাষায়, 'আমি একেবারেই মনে করি না যে এটি ওকে প্রভাবিত করবে। মাঠে নামলে শান্ত শুধু ক্রিকেট নিয়েই ভাবে, বাইরের বিষয় আমরা দেখি।' 

সব মিলিয়ে গলে শুরু হতে যাওয়া এই টেস্ট সিরিজে মূল লড়াই হতে চলেছে ব্যাটারদের ধৈর্য আর স্পিনারদের ধাঁধার মধ্যে। উইকেট যেমন বলছে স্পিনের কথা, তেমনই দুই দলের কৌশলও নির্দেশ করছে স্পিনারদের রাজত্বের। এখন অপেক্ষা কেবল প্রথম বলটা মাঠে গড়ানোর। গল টেস্টের পরে ২৫ জুন থেকে কলম্বোয় দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট গড়াবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ