ছেলেধরা সন্দেহে সেই নারীকে লোহার রড দিয়ে পেটানো হয়

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৯, ০০:২৫

বাড্ডায় ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে তাসলিমা বেগম রেনু নামের  সেই নারীকে পিটিয়ে হত্যার নেতৃত্ব দেওয়া জাফর পাটোয়ারি জানিয়েছেন, লোহার রড নিয়ে ঐ নারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। এক নাগাড়ে অন্তত ২০/২৫ বার আঘাত করেন। পেটানোর এক পর্যায়ে কয়েক দফা চিত্কার করে নিস্তেজ হয়ে পড়েন রেনু। জাফরের মাথায় রক্ত চড়ে বসে। তার সঙ্গে আকলিমা নামে এক নারী রেনুকে অনবরত লাথি মারেন। এরপর নারীদের বেষ্টনী থেকে রেনুকে আকলিমাই তুলে নিয়ে পুরুষদের কাছে ফেলে দেয়। সেখানে হূদয় নামে এক যুবক লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে। পেটাতে পেটাতে হূদয় ক্লান্ত হয়ে পড়ে। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম মো. তোফাজ্জাল হোসেনের আদালতে আসামি জাফরের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এমনই বর্ণনা উঠে এসেছে।

আদালতে জাফর যখন এই বর্ণনা দিচ্ছিলেন, তখন অনেকের চোখ দিয়ে পানি ঝরছিল। জাফর পাটোয়ারির বাবা ইয়াসিন পাটোয়ারি উত্তর বাড্ডার ভাই ভাই হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক। জাফর খিলক্ষেতে রেসিডেন্সিয়াল ল্যাবরেটরি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তিন আসামিকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মণ্ডল চার দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। রিমান্ডকৃত আসামিরা হলেন—বরগুনার তালতলী উপজেলার গাবতলী হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা শাহীন (৩১), ময়মনসিংহের ধোবাউরা উপজেলার দরশা গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া (২৮) ও উত্তর বাড্ডা কাঁচা বাজারের ফারুকের মুদি দোকানের কর্মী বাপ্পী (২১)।

বাড্ডা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, গণপিটুনিতে নেতৃত্ব দেওয়া আরো ১৬ জনকে আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করেছি। এদের মধ্যে হূদয় ও আকলিমা বেগম নামে দুজনকে আটকের জন্য অভিযান চালানো হয়েছে।