দেশে ফুলের বাজার এখন ১২০০ কোটি টাকার

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৩৭

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশে দিনে দিনে ফুলের বাণিজ্য বাড়ছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ফুলের ব্যবহারও বাড়ছে। ফলে বড় হচ্ছে ফুলের বাজার। ব্যবসায়ীদের সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বছরে ফুলের বাজার ৮০০ কোটি থেকে ১২০০ কোটি টাকা। আর চলতি বছর বিশ্বব্যাপী ফুলের রপ্তানি বাণিজ্য ৪৪০০ কোটি মার্কিন ডলারে (৪৫ বিলিয়ন ডলার) উন্নীত হতে পারে। যদিও এর মধ্যে বাংলাদেশের অংশ এক লাখ ডলারেরও কম। বিশ্বব্যাপী ফুলের রপ্তানি বাণিজ্যের বড় অংশই চীনের দখলে।

বর্তমানে বাংলাদেশ খুব সামান্য পরিমাণে ফুল রপ্তানি করলেও এ খাতটিকে সম্ভাবনাময় মনে করছে ডিসিসিআই। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফুলের চাষকে উত্সাহিত করা, বিনিয়োগ আকর্ষণ করার লক্ষ্যে ঢাকায় তিনদিনের আন্তর্জাতিক ফুল প্রদর্শনী ও সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে ডিসিসিআই।  শেরে বাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এ প্রদর্শনীতে দেশ বিদেশের ৭০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংগঠনের সভাপতি আবুল কাশেম খান।  এ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত থাকছে ইউএসএআইডি ও বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটি।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, গত অর্থবছর ৮৬ হাজার ডলারের ফুল রপ্তানি হয়েছে। তবে দেশে যে ফুলের বাজার রয়েছে, তা আগামী কয়েক বছরে ১০ গুণ বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য সরকারের নীতি সহায়তা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে ফুল চাষে কিছু চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরা হয়। প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞানের অভাব, সংরক্ষণ, পরিবহনের সমস্যা ও অবকাঠামোর সমস্যাও রয়েছে। এ খাতের জন্য একটি নীতিমালা বাস্তবায়নের পাশাপাশি অগ্রগতিতে সরকারকে এ খাতে বিনিয়োগ করার আহ্বানও জানান তারা।

এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার ফারুক জানান, বর্তমানে ২৩ জেলায় প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে ফুলের চাষ হয়। এক সময় রজনীগন্ধা দিয়ে শুরু হলেও এখন অন্তত ৫০ রকমের ফুলের চাষ হয় দেশে। ফুল চাষ ধানের চাইতেও লাভজনক।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুর রহিম ছাড়াও ইউএসএআইডি’র প্রতিনিধি, ডিসিসিআইয়ের পরিচালক ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।