তিন বছর পর ফিরেই চমকে দিলেন আমির

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৫, ১৮:৫০

বেশ অনেক বছর প্রেক্ষাগৃহে নেই বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট খ্যাত আমির খান। তার অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘লাল সিং চাড্ডা’ সিনেমা বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। সিনেমার চরম ব্যর্থতার পর নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন আমির খান। তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আর পর্দায় ফিরবেন না। তবে অনুরাগীদের অনুরোধে শেষমেশ ফিরেছেন অভিনয়ে। তিন বছর পর সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘সিতারে জামিন পার’ নিয়ে আবারও বড় পর্দায় ফিরলেন আমির খান। সিনেমাটি নিয়ে বেশ আশাবাদী অভিনেতা। 

যদিও মুক্তির আগে ‘সিতারে জমিন পর’ নিয়ে খুব একটা উচ্চাশা ছিল না সমালোচকদের। ছবির অগ্রিম টিকিট বিক্রির অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। আবার রিমেক ছবি কেন করলেন আমির, এ নিয়ে বিরক্তও ছিলেন অনেকেই। এছাড়া নেতিবাচক নানা প্রচারণাও ছিল। তবে গত শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তি পেতেই যেন সব বদলে গেল। তিন বছর পর প্রেক্ষাগৃহে প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করে রাখলেন আমির খান। 

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ‘সিতারে জামিন পার’ সিনেমাটির মধ্য দিয়ে দুর্দান্ত কামব্যাক করেছেন আমির খান। আর তাতে তিনি সফলও! কেননা মুক্তির প্রথম দিন ছবিটি আয় করে ১১ কোটি রুপি, দ্বিতীয় দিনে ২২ কোটি রুপি। এদিকে রোববার ছিল ভারতের সাপ্তাহিক ছুটির দিন। এ দিন ছবিটি ২৮ কোটি রুপি আয় করেছে। সব মিলিয়ে মুক্তির পর প্রথম তিন দিনে ছবিটির আয় ছিল ৬০ কোটি রুপিরও বেশি।

তবে আয় সন্তোষজনক হলেও ছবিটির প্রযোজনার খরচ এখনও পুরোপুরি উঠে আসেনি। ফলে সিনেমাটি লাভের ঘরে ঢুকতে কিছুটা সময় লাগবে বলেই মনে করা হচ্ছে। 

এদিকে ধারণা করা হচ্ছে, পাঁচ দিনেই ১০০ কোটি রুপির ক্লাবে প্রবেশ করবে ছবিটি। ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তারে জামিন পার’ ছিল আমির খানের অন্যতম সাড়া জাগানো ছবি। ‘সিতারে জামিন পার’ সেই ছবির সিক্যুয়েল হিসেবে পরিচিত হলেও, আদতে এটি হলিউড ছবি ‘চ্যাম্পিয়ন্স’-এর হিন্দি রিমেক।

একটি স্প্যানিশ সিনেমার এ হিন্দি রিমেকটি পরিচালনা করেছেন এস প্রসন্ন। আমির ছাড়াও ছবির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন জেনেলিয়া ডি’সুজা। ছবিতে আমিরের সঙ্গে  বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ১০ শিল্পী অভিনয় করেছেন।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিল্পীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে আমির বলেন, আমার প্রায় ৩৫ বছরের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, সেটে সৃজনশীল মানুষের মধ্যে ইগো, মতবিরোধ ও টানাপোড়েন থাকেই। কিন্তু এই ছবির শুটিংয়ে সেই চিত্র একেবারে উল্টো। ওই ১০ বিশেষ শিল্পী সেটে পা রাখতেই যেন এক পবিত্রতা ছড়িয়ে যেত। তাদের মধ্যে কোনো অহংকার নেই, নেই গলা উঁচিয়ে কথা বলার অভ্যাস। এমনভাবে সহযোগিতা করেছে, যা আমাদেরও শিখিয়ে গেছে কীভাবে সহনশীল হতে হয়।

 

ইত্তেফাক/এনটিএম/এমএএস