অণুগল্প

হাতঘড়ি

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৯, ২১:০৯

 

আর সবার মতো আমার মনের মধ্যেও অনেক ধরনের ভাবনাচিন্তা ঘুরপাক খায়। সেসব ভাবতে আমার বেশ ভালোই লাগে। এসব ভাবনা নিয়ে মাঝেমধ্যে পত্রপত্রিকায় লেখা পাঠানোরও অভ্যাস রয়েছে। ছাপাও হয় কোনো কোনো পত্রিকায়। যে ঘটনাটি বলতে চাইছি সেটা ২০১৭ সালের শেষ দিকের। মুর্শিদাবাদের ঘটনা। একদিন বাসে করে বাড়ি ফিরছিলাম। বাসটি আমতলা বাসস্টপে দাঁড়াল। আর মাত্র ১০ কিলোমিটার পরেই গন্তব্য। জানালার ধারে বসে আছি। মাথায় সৃজনশীল ভাবনাগুলো জট পাকিয়েছে। তাদের ছন্দমতো ধরে সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। তাই শান্ত হয়ে বসে আছি সিটে।

একটু পড়েই গাড়িটি ছাড়ার উপক্রম দেখা দিল। পাশে এসে এক ভদ্রলোক বসলেন। অমনি হুঁশ ফিরল। না আমাকে তো এখানেই নামতে হবে। আমতলায় প্রাইভেট পড়ে তবেই তো বাড়ি যাব! হুটহাট করে সিট ছেড়ে নামতে লাগলাম। পাশে এসে বসা লোকটি আমাকে লক্ষ্য করে কী যেন একটা বলার চেষ্টা করছেন বুঝলাম। কিন্তু, তিনি কী বলছেন—অবজ্ঞার ছলে তার কোনো গুরুত্বই দিলাম না, আমি সটান নেমে পড়লাম।

হাঁটতে লাগলাম নিমতলা মোড় বরাবর। পেছনে বাসটিও ছেড়ে দিয়েছে মন্থর গতিতে। সময় জানতে হাত উঁচিয়ে দেখলাম। সে কী! আমার হাতঘড়িটা কই? তখন আর বুঝতে বাকি রইল না—ঐ লোকটি বোধহয় সিটে (আমার) ঘড়িটা দেখে আমাকে জানাতে গিয়েছিলেন। অথচ আমি তাকেই কি না অবজ্ঞা করেছি!