শৈবাল ও ছত্রাক
ছুটিতে অর্পা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে আঙিনায় ঘোরার সময় ছায়াযুক্ত স্থানে সাদা ছাতার মতো কিছু বস্তু লক্ষ্য করল। পরবর্তীতে অর্পা মামার কাছ থেকে ছত্রাক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারল।
প্রশ্ন : ক. ফাইকোলজি কাকে বলে?
প্রশ্ন: খ. হিপনোস্পোর বলতে কী বুঝায়?
প্রশ্ন : গ. অর্পার পর্যবেক্ষণকৃত ছত্রাকটির গঠন বর্ণনা কর।
প্রশ্ন : ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ছত্রাকটি কি অসম্পূর্ণ ছত্রাক? যুক্তিসহ মতামত দাও।
উত্তর: ক. জীববিজ্ঞানের যে শাখায় শৈবাল সম্পর্কে আলোচনা, পর্যালোচনা ও গবেষণা করা হয় তাকে ফাইকোলজি বলে।
উত্তর : খ. স্পোর ফ্লাজেলাবিশিষ্ট ও সচল হলে তাকে জুম্মোর বলে। স্পোর ফ্লাজেলাবিহীন নিশ্চল হলে তাকে অ্যাপ্লানোস্পোর বলে। বিরূপ পরিবেশে অ্যাপ্লানোস্পোর পুরু প্রাচীর বেষ্টিত হলে তাকে হিপনোস্পোর বলে।
উত্তর ঃ গ. অর্পার পর্যবেক্ষণকৃত ছত্রাকটি Agaricue। মাইসেলিয়ান থেকে ছাতার মত বায়বীয় অংশ সৃষ্টিকে ফ্লুকটিফিকেশন বলে এবং ঐ বায়বীয় অংশকে Agaricue উদ্ভিদের ফ্রুটবডি বলা হয়। নিম্নে Agaricue এর দৈহিক গঠন বর্ণনা করা হলো।
Agaricue এর দেহ দুটি অংশে বিভক্ত। যথা
১. দৈহিক অংশ বা সাইসেলিয়াস
২. জনন অংশ বা ফ্রুটবডি
৩. সহজলভ্যতা: মানববসতির আশেপাশে বাস করে এবং অন্য প্রাণীর বদলে মানুষকে বেশি দংশণ করে এমন প্রাণীও পোষক হিসেবে মশকী অনন্য।
৪. পুষ্টিদান: সহজেই সংক্রমিত হয় এবং জীবাণুকে পুষ্টিদান করে বলে মশকী পোচক হিসেবে প্রয়োজনীয়।
৫. জীবনকাল: যৌন জীবনচক্র সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ের চেয়ে বেশিদিন বাঁচে বলে নিশ্চিত পোষক হিসেবে মশকী অনন্য ভূমিকা পালন করে।
সুতরাং এক কথায় বলা যায় ম্যালেরিয়ার জীবাণুর জীবনচক্রে অযৌন ও যৌন চক্রের বিভিন্ন ধাপ এমনভাবে অভিযোজিত হয়েছে যার ফলে নির্দিষ্ট পোষক দেহের বাইরে ধাপগুলো চলতে পারে না। তাই জীবনচক্র সম্পাদনে মানুষ ও p (মশকী) দুটি পোষকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।
১. মাইসেলিয়াম: মাইসেলিয়াম অত্যন্ত শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট ও সূত্রাকার এবং মাটি বা জৈব বস্তুর ভেতরে অবস্থান করে। মাইসেলিয়াম অসংখ্য সাদা বর্ণের প্রস্থ প্রচারযুক্ত হাইফি নিয়ে গঠিত। হাইফার কোষগুলোতে দানাদার প্রোটোপ্লাজম, একাধিক ডিউক্লিয়াস, ছোট ছোট গহবর ও সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে তেলবিন্দু অবস্থান করে। অনেক সময় হাইফিগুলো একত্রে জড়াজড়ি করে দড়ির মত গঠন তৈরি করে। একে রাইজোমর্ফ বলে।
চিত্র: Agaricus ছত্রাকের ফ্রুটবডি এবং অন্যান্য অংশ
২. ফ্রুটবডিঃ ফ্রুটবডি মাটি বা আবাদ মাধ্যম থেকে উপরে বৃদ্ধি পায়। এর কয়েকটি অংশ থাকে। গোড়ার দিকে কাণ্ডের মত অংশকে স্টাইপ এবং উপরের দিকে ছাতার মত অংশকে পাইলিয়াস বলে। পাইলিয়াসের নিচে ঝুলন্ত পর্দার মত অংশকে গিল বলা হয়। স্টাইপের মাথায় যে চক্রাকার অংশ রয়েছে তার নাম অ্যানুলাস। Agaricus এর ফ্রুটবডিকে ব্যাসিডিয়োকার্প বলে। গিলে বহু ব্যাসিডিয়াম তৈরি হয়। প্রতিটি ব্যাসিডিয়ামের শীর্ষে আঙুলের মত ৪ টি অংশের মাথায় ১টি করে ব্যাসিডিয়োস্পোর তৈরি হয়। অনুকূল পরিবেশে স্পোর অংকুরিত হয়ে নতুন মাইসেলিয়ামের জন্ম দেয়।
উত্তর: ঘ. যে সব ছত্রাকের যৌন জনন সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা যায় নি সেসব ছত্রাক নিয়ে গঠিত কৃত্রিম শ্রেণিটি Deuteromy cetes বা fungi imperfeeti। এদের অযৌন জনন সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহ হলেও যৌনজনন সম্পর্ণ অজ্ঞাত। এ সমস্ত ছত্রাককে অসম্পূর্ণ ছত্রাক বলে। যৌন জনন অজ্ঞাত বলেই এ সব ছত্রাককে কোনো শ্রেণিতে স্থান দেয়া হয়নি। এদেরকে একটি পৃথক শ্রেণিতে শ্রেণিভূক্ত করা হয়েছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত Agaricus ছত্রাক Basidiomycetes শ্রেণির অন্তর্ভূক্ত। Agaricus প্রধানত যৌনজনন প্রক্রিয়ায় জনন কার্য সম্পন্ন করে। যৌন স্পোর উত্পাদনকারী অঙ্গ ব্যাসিডিয়াম এবং স্পোরের নাম ব্যাসিডিয়োস্পোর । Agaricus গণের প্রজাতি গুলো মৃতজীবিরূপে মাঠের উর্বর মাটি, পচা খড়ের সাদা, কাঠের গাদা, জৈব পদার্থযুক্ত পতিত জমি, বিশেষ করে বর্ষাকালে একক বা দলবদ্ধভাবে জন্মায়। সুতরাং Agaricus, Deuteromycetes শ্রেণির অন্তর্ভূক্ত নয়। Agaricus, এর যৌন জনন সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা ধারনা প্রদান করেছেন। পাশাপাশি Agaricus, পরজীবী নয় বরং মৃতজীবী। অসম্পূর্ণ ছত্রাকের যৌন বিশিষ্ট্যই Agaricus এর মধ্যে নেই। সুতরাং উদ্দীপকে উল্লিখিত ছত্রাকটি (Agaricus) অসম্পূর্ণ ছত্রাক নয়।
