মূল্যস্ফীতি স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে :পরিকল্পনামন্ত্রী

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৩৯

ইত্তেফাক রিপোর্ট

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৫ ভাগের নিচে বেঁধে রাখা সম্ভব হয়েছে। গেল নভেম্বর মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমে ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশে রয়েছে। অক্টোবরে এই হার ছিল ৫ দশমিক ৪০ ভাগ। আসছে জাতীয় নির্বাচনকালীন সময়ে ডিসেম্বর মাসেও মূল্যস্ফীতি বাড়বে না বলে মনে করেন তিনি। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলানগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর মূল্যস্ফীতি স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে। কারণ কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি বরং দাম কমেছে। পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। যেসব পণ্য আমরা আমদানি করি সেসব পণ্যের দাম বাড়েনি।

মন্ত্রী বলেন, গত বছর নভেম্বর মাসে ১০০ গ্রাম কাঁচা মরিচের দাম ছিল ১৬ টাকা। এ বছর এখন ৮ টাকা। পেঁয়াজ গত বছর ছিল ৮৪ টাকা কেজি এবার ৪৮ টাকা। রসুন ছিল ১১০ টাকা কেজি এখন ১০০ টাকা কেজি। প্রতি কেজি চিনি ছিল ৬৪ টাকা এখন ৫৮ টাকা। প্রতিকেজি চালের দাম গড়ে ছিল ৫৪ টাকা, এ বছর ৪৮ টাকা। হলুদ এক কেজির দাম ছিল ২৬০ টাকা, এ বছর ১৯৪ টাকা। এভাবে প্রত্যেকটি জিনিসের দাম কমেছে। তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি কমার আর একটি কারণ হচ্ছে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার গত এক বছর ধরেই স্থিতিশীল রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী গেল নভেম্বর মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতির হার কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। মাস ভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, এক মাসের ব্যবধানে খাদ্য বহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতির হার কমলেও খাদ্যে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। নভেম্বরে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২৯ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। খাদ্য বহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের কারণে ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি বাড়বে না। কর্মসংস্থান বিষয়ে বলেন, কর্মসংস্থান বাড়ছে তবে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে সেভাবে বাড়েনি। কারণ এ খাতে যে পরিমাণ জ্বালানির চাহিদা ছিল তা আমরা দিতে পারিনি। এই সমস্যা এখন কেটে গেছে। এখন বিনিয়োগ বাড়বে। নতুন কর্মসংস্থানও বাড়বে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, চলতি অর্থবছর শেষ নাগাদ দেশে মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৩০ ভাগ পর্যন্ত হতে পারে।