প্রফেসর ড. এমরান কবির চৌধুরী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ উপাচার্য। সম্প্রতি ইত্তেফাকের সঙ্গে
সাক্ষাত্কারে তিনি দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র রাজনীতির সামগ্রিক চিত্র, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের
সমসাময়িক সমস্যা ও উত্তরণের নানা দিক তুলে ধরেন। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন— সজীব বণিক
ইত্তেফাক: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা বিলম্ব হওয়ার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে আপনার ধারণা?
উপাচার্য: এটা একটা দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাগবের জন্যে রাষ্ট্রপতি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সব উপাচার্যও এ ব্যাপারে একই সিদ্ধান্তে এসেছেন। তাই সমন্বয়ের ভিত্তিতে একই ধারার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একটি গুচ্ছে এনে একসঙ্গে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। অর্থাত্ আগামী বছর থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃষি, প্রকৌশল ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আলাদা আলাদা করে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক: শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনার্স-মাস্টার্সে একাডেমিক পড়াশুনার পাঁচ ভাগও চাকরি পরীক্ষায় কাজে আসে না। আপনার অভিমত কী?
উপাচার্য: দ্বিমত পোষণ করছি। তবে একাডেমিকের বাইরে অবশ্যই পরিশ্রম করতে হবে। কেবল বিষয় নিয়ে ভাবলে হবে না বরং পাঁচ বছরকে কীভাবে সঠিকভাবে প্রয়োগ করবেন সেটার ব্যবহার জানতে হবে।
ইত্তেফাক: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যত্ নিয়ে হতাশ। এর কারণ কর্মসংস্থান সংকট নাকি শিক্ষার অবমূল্যায়ন?
উপাচার্য: কর্মসংস্থান সংকট ও শিক্ষার অবমূল্যায়ন দুটো কারণই যথার্থ। মেধাবীদের অধিকাংশ আজকাল বিসিএসমুখী তাই শুধু বিসিএস নয় বরং গবেষণার ক্ষেত্রেও মনোযোগী হতে হবে, এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যত্ নিয়ে হতাশ হতে হবে না।
ইত্তেফাক: অভিযোগ আছে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক ক্লাসে যেমন উদাসীন তেমনি রিসার্চেও নেই কোনো মনোযোগী। তাদের ব্যাপারে কিছু বলুন?
উপাচার্য: যারা ক্লাস ফাঁকি ও রিসার্চের ব্যাপারে অনীহা দেখাচ্ছে তাদের ব্যাপারে আমি সতর্ক। এ ব্যাপারে সব বিভাগের চেয়ারম্যান, অনুষদের ডিন সবার সঙ্গে প্রতিনিয়ত খোঁজ রাখছি। ক্লাসে ফাঁকিবাজি হলে ও রিসার্চে মনোযোগী না হলে অবশ্যই শাস্তি পাবে এমনকি প্রমোশন আটকে যাবে। আর যারা রিসার্চে মনোযোগী আছে তাদের উত্সাহ দিচ্ছি।
