চাকরি ছেড়ে ইউটিউব!

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৯, ২১:৫৫

মা চাকরি করতেন। মাকে সেভাবে কাছে পাননি। সেই আক্ষেপ যাতে তার সন্তানেরও না থাকে সেজন্য গর্ভে সন্তান আসার সঙ্গে সঙ্গেই ছেড়ে দেন চাকরি। চাকরি ছাড়লেও ঘরে বসে থাকতে চাননি তিনি। স্বামীর আয়ের ওপর নির্ভর না করে ঘরে বসেই কীভাবে আয় করা যায় সারাক্ষণ তাই ভাবতেন। সেই ভাবনা থেকেই ইউটিউব চ্যানেলকে করে তুলেছেন রান্নাঘর। বলছি নারী ইউটিউবার নাহিদা আক্তার তুলির কথা। যিনি ইউটিউব প্ল্যাটফর্মকে অর্থ উপার্জনের মূল মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

নাহিদা ২০১৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘এন ওভেন-কেক এবং কুকিজ’ নামে ইউটিউব চ্যানেলে বিভিন্ন বেকিং আইটেম তৈরির ভিডিও শেয়ার করছেন। দেশের ও দেশের বাইরের মানুষের কাছে কেক এবং কুকিজের বিভিন্ন আইটেম শেখার এ জনপ্রিয় চ্যানেলে  ওভেন ব্যবহার না করে কীভাবে বিভিন্ন কেক এবং কুকিজ তৈরি করা যায় তারই টিউটোরিয়াল হচ্ছে তার এ চ্যানেলের কন্টেন্ট। তার রান্নার বিশেষত্ব হচ্ছে তিনি ডিম ছাড়াই তৈরি করেন এসব বেকিং আইটেম। এই মুহূর্তে তিনি তার চ্যানেলে ৩১৩টি ভিডিও সবার জন্য উন্মুক্ত রেখেছেন। তার এ প্রতিটি ভিডিও তৈরি করতে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা সময় লাগে। তিনি চেষ্টা করেন প্রতি সপ্তাহে তিনটি নতুন ভিডিও আপলোড করার।

নাহিদা ইউটিউব ক্রিয়েটর রিওয়ার্ডসের অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ইউটিউব ‘সিলভার পে­বাটন’ সম্মাননা পান। বর্তমানে তার চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার প্রায় নয় লাখ। যা সাবস্ক্রাইবার হিসেবে বাংলাদেশি নারী ইউটিউবারদের মধ্যে অন্যতম।  প্রতি মাসে নাহিদার ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। তার এই পথচলায় তাকে সাহায্য ও সমর্থন করে যাচ্ছেন তার স্বামী। এছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যদের সমর্থন তাকে এই অল্প সময়ে এতদূর আসতে সাহায্য করেছে। তার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা হচ্ছে, ইউটিউবে কেক ও কুকিজ আইটেম তৈরির টিউটোরিয়াল শেয়ারের পাশাপাশি খাবারের স্বাদটাও শেয়ার করার জন্য আইটেমগুলো নিয়ে আউটলেট দেওয়া। বাংলাদেশের একটি ব্র্যান্ড হিসেবে দাঁড় করানো।

নারীদের প্রতি তার আহ্বান হচ্ছে, ঘরে বসে না থেকে যে যে বিষয়ে দক্ষ সেটা নিয়েই কাজ করা উচিত। হাতে একটা স্মার্টফোন থাকলেই একজন নারী ইউটিউবার হয়ে উঠতে পারে। হওয়ার জন্য শুধু প্যাশন থাকা জরুরি। প্যাশন থাকলেই একজন নারী আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে।