লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে ডাকাতি, নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার লুট

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৫, ১৯:৩৩

কুষ্টিয়ায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে ডাকাতি হয়েছে। চরম অমানবিক ও বিবেক বর্জিত ডাকাতি ঘটনায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য। বুধবার (২৬ জুন) দিবাগত গভীর রাতে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কালিতলা-দুর্গাপুর মাঠ সংলগ্ন সড়কে ডাকাতির এই ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ ও ডাকাতির শিকার অ্যাম্বুলেন্স যাত্রীরা জানান, পোড়াদহ ইউনিয়নের সুধিরাজপুর গ্রামের রোগী আয়েশা খাতুন (৬০) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাতে মারা যান। ঘটনার রাতেই মৃতের স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ গ্রামের বাড়িতে নিতে রাজশাহী থেকে রওনা হন। রাত আড়াইটার দিকে বাড়ির এক কিলোমিটার দূরত্বে কালিতলা-দুর্গাপুর মাঠের কাছে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছালে ৫/৬ জনের ডাকাত দল আড়াআড়ি বাঁশ ফেলে সড়কে ব্যারিকেড দেয়। এ সময় স্বজনদের কাছ থেকে নগদ প্রায় ৩২,৬০০ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটে নিয়ে যায়। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সে লাশ আছে কি-না নিশ্চিত হতে মুখের কাপড় সরিয়েও দেখে ডাকাতরা।

এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সন্দেহভাজন ডাকাতদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে। তবে এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি। এছাড়া ডাকাতি ঘটনায় এখনো কেউ থানায় মামলা করেনি।

মৃতের ছোট বোন বলেন, ডাকাতদের অনুরোধ করে আমরা বলি, ‘ভাই আপনাদেরও মা-বোন আছে। আপনারা দেখেন আমার বোন মারা গেছে।’ তবুও আমার কান থেকে ডাকাত দল একজোড়া দুল নিয়ে যায়। এমনকি ডাকাত দল আমার বোনের মুখ খুলে দেখে যে সত্যিই সে মারা গেছে কি-না।

এর আগেও মিরপুর উপজেলার অন্তর্গত কুষ্টিয়া-মেহেরপুর মহাসড়কসহ গ্রামীণ সড়কে একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। 

মিরপুর থানার ওসি মো. মোমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের আটকে জোর চেষ্টা চলছে। যত দ্রুতসম্ভব আসামীদের আটক করে আইনের কাছে সোপর্দ করা হবে বলে ওসি জানান। 

ইত্তেফাক/এএইচপি