ক্যানসার চিকিত্সায় আধুনিক রেডিওথেরাপি

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৯, ২২:০৪

চিকিত্সা বিজ্ঞানের উন্নতি ও জয়যাত্রার মাধ্যমে ক্যানসার রোগও বর্তমানে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। সাধারণত তিনটি পদ্ধতিতে ক্যানসারের চিকিত্সা করা হয়। যেমন—সার্জারি, রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপি। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একাধিক পদ্ধতির প্রয়োজন হয়। প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয়, সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত ক্যানসার চিকিত্সার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যদিও বাংলাদেশে ক্যানসার রোগীর সঠিক রেজিস্ট্রি এখনো সম্পন্ন করা যায়নি তবে ধারণা করা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ ক্যানসার আক্রান্ত রোগী আছে। এই রোগীদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রায় ২ লাখ রোগী প্রতি বছর ক্যানসার হিসাবে নির্ণয় হচ্ছে যার মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রোগী মারা যায়। বাংলাদেশে গড়ে প্রতি ১ হাজারে ৭ জন রোগী আছে বলে প্রতীয়মান।

আমাদের দেশেও ক্যানসার রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিত্সার সুযোগ রয়েছে। ক্যানসারের মূল চিকিত্সা পদ্ধতিগুলো যেমন—সার্জারি, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, হরমোন থেরাপি, ইমিউনো থেরাপি ও টার্গেটেড থেরাপি সবগুলোই বিদ্যমান। আধুনিক রেডিওথেরাপিতে শুধু ক্যানসার আক্রান্ত কোষ ছাড়া আশপাশের সুস্থ কোষ কলাগুলো যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য নতুন পদ্ধতি থ্রি ডিকনফর্মাল রেডিওথেরাপি এমনকি পরিবর্তীকালে রেডিও সার্জারি দ্বারা ক্যানসার চিকিত্সা দেওয়া হয়ে থাকে।

রেডিওথেরাপি এক ধরনের চিকিত্সা পদ্ধতি যার মাধ্যমে বিকিরণরশ্মিকে ক্যানসার চিকিত্সায় ব্যবহার করা হয়।

প্রাযুক্তিক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে উন্নত বিশ্বে চিকিত্সায় নিত্যনতুন প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে। অল্প সময়ে সঠিকভাবে বিনা অস্ত্রোপচারে রেডিয়েশনের মাধ্যমে ক্যানসার চিকিত্সার আধুনিক পদ্ধতির না মরেডিও সার্জারি। ক্যানসার রোগীদের রেডিওসার্জারি আশার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন হয়েছে। অত্যাধুনিক সফ্টওয়্যার ব্যবহার করে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত রেডিওসার্জারির মাধ্যমে সুস্থ টিস্যুর ক্ষতি না করে শুধু ক্যানসার কোষে রেডিয়েশন দেওয়ার মতো নিখুঁত কার্যকারিতা দেখিয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি।

মহিলাদের ব্রেস্টক্যানসারে চেস্টওয়াল ও গলার নিচে (সুপরাক্লেভএরিয়া) রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ফুসফুস ও বিপরীত দিকের ব্রেস্ট, গলা ও ট্রাকিয়ায় রেডিয়েশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় গিলতে অসুবিধা, কাশি ও জ্বর অনুভূত হয়। এ ক্ষেত্রে রোগীর চিকিত্সার সময় সঠিকভাবে পজিশনিং নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

তাছাড়া নিচ পেটে রেডিওথেরাপি সাধারণত জরায়ু ক্যানসার ও রেকটাল ক্যানসারে দেওয়া হয়ে থাকে। সে সময় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন ডায়রিয়া, বমি হওয়া ও পেটে ব্যথা হতে পারে তা চিকিত্সার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

অনেক সময় রোগীরা মনেকরে রেডিওথেরাপি চলাকালীন সময়ে পানি লাগানো বা গোসল করা যাবে না। আসলে লিনিয়ের এক্স সিলিরেটর মেশিনে চিকিত্সা নিলে পানি লাগানো বা গোসল করা যাবে তবে চিকিত্সা স্থানে ঘষামাজা, সাবান ব্যবহার করা নিষেধ। এসব নিয়ম মেনে চিকিত্সা নিলে পরবর্তীকালে কোনো অসুবিধা হয় না।

n লেখক : সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও প্রধান, অনকোলজি বিভাগ, ডেলটা হাসপাতাল লিমিটেড