সরকারের একটি অংশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও আওয়ামী লীগের লোকজন দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট ড. কনক সারওয়ার। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে আবারও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে সরকারের একটি অংশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং আওয়ামী লীগ তো শতভাগ চেষ্টাই করছে।
রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় রেলের জায়গায় অস্থায়ীভাবে নির্মিত দুর্গা-মন্দির ভাঙার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর প্রসঙ্গ টেনে বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এসব কথা বলেন তিনি।
কনক সারওয়ার বলেন, ৫ আগস্টের পরে যে পরিস্থিতিটা তৈরি হয়েছিল, সেই পরিস্থিতিতে আমরা দেখেছি যে, কীভাবে হিন্দু সম্প্রদায়কে মাঠে নামানো হয়েছিল। কীভাবে তাদের ওপরে পরিকল্পিত-অপরিকল্পিত কিছু ঘটনা ঘটিয়ে, নানা রকমভাবে পরিবেশটাকে ধ্বংস করে দেওয়ার একটি চেষ্টা হয়েছিল। সেই পরিবেশটা থেকে মোটামুটি সরকার সামাল দিয়ে উঠেছেন। এখন দেখা যাচ্ছে যে, আবারও নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আমি আজকে সকালেই একটি ভিডিও দেখছিলাম।
সে ভিডিওটি লাইভ ভিডিও। সেটি করেছেন পিজুস দাস, সভাপতি বাংলাদেশ হিন্দু মহাসংঘ, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট। তার একটি লাইভ ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, খিলক্ষেতে একটি রেলওয়ে জমির উপর নাকি মন্দির নির্মিত হয়েছে। অবৈধ জমির উপরে। সেই মন্দিরটিকে ভেঙে ফেলা হয়েছে প্রশাসন-পুলিশ-সেনাবাহিনীর সহায়তায়।
তিনি বলেন, বর্তমানে যে শান্ত পরিস্থিতি, সেই পরিস্থিতিটাকে একটি উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা চলছে। রেলওয়ের জমিতে টিন দিয়ে একটি মন্দির নির্মিত ছিল। সেই মন্দিরটি গত ২৩ তারিখ থেকে খুব সম্ভবত তারা কনস্ট্রাকশনে যাচ্ছিলেন, তার পরপরই এটি নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয় স্থানীয়দের মধ্যে। তার পরপরই নাকি সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই প্রবাসী সাংবাদিক বলেন, বাংলাদেশে এ রকম অসংখ্য মসজিদ অসংখ্য মন্দির পাবেন, যেগুলো সরকারের জমিতে অবৈধভাবে দখল করে মন্দির-মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয় বানানো হয়েছে। এগুলো বাংলাদেশের বহু পুরাতন একটি প্র্যাকটিস এবং বহু মানুষ এসব ধান্দাবাজির সঙ্গে যুক্ত।
সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এ রকম একটা শান্ত পরিস্থিতিতে কেন এই জাতীয় একটি ঘটনা ঘটালেন? বাংলাদেশের পূজা উদযাপন পরিষদসহ হিন্দুদের বিভিন্ন রকমের সংগঠন আছে। সরকার কেন তাদের সঙ্গে বসেই সমস্যাটার সমাধান করল না? প্রয়োজনে তাদের যদি জমি লাগে মন্দির করার জন্য, যদি জমির প্রয়োজন হয়, সে জমিও তো তারা বরাদ্দ দিতে পারে সরকারি জমিতে। অন্য কোথাও বৈধভাবে বরাদ্দ দিয়ে একটি মন্দির তো হতেই পারে বাংলাদেশে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। গত ১৫ বছর ধরে হাসিনা এবং তার অনুসারীরা বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক বাঙালির বাংলাদেশ বানানোর যে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে, সেটির ফল আমরা হাতে হাতে পেয়েছি। এই সরকারের উচিত ছিল একটি আলোচনার মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে বসে একটি সমাধান করা। কিন্তু যে পদ্ধতিতে এটিকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, সেটি বিদেশের কাছে বাংলাদেশকে একটি অন্যভাবে প্রজেক্ট করবে। পাশাপাশি ভারতের সরকার ভারতের নেতাদের একটি অংশ রাজনৈতিক দলের একটি অংশ মিডিয়া এ বিষয়গুলো লুফে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। আপনি আননেসেসারিলি কেন তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দেবেন? কেন আপনি হিন্দু সম্প্রদায়কে উসকানি দিয়ে তাদের মাঠে নামিয়ে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করবেন?
