স্বপ্ন বিশ্বমানের ফ্রিল্যান্সার তৈরি করা

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৯, ২২:১৪

 

স্বপ্নটা যখন উদ্যোক্তা হওয়ার, পথটা তখন নিশ্চিত ভাবেই সহজ ছিল না। বাংলাদেশের ছোট্ট একটা গ্রামের ছোট্ট একটা ঘরে বসে একটা স্বপ্ন দেখা ও বাস্তবে রূপ দেওয়াটাও যেন এক রূপকথার গল্প। মুহাম্মদ আল আাামিন তেমনি একজন সফল উদ্যোক্তা, যিনি জয় করেছেন তাঁর স্বপ্ন পথের সকল বাধাকে।

ছোটবেলা থেকেই তাঁর মাঝে ছিল নতুনকে জানার এক অদম্য পিপাসা। নতুন কিছু জানা, নতুন কিছু শেখাটা ছিল তাঁর নেশা। সহপাঠী ও বন্ধুমহলে সবসময়ই নেতৃত্বমূলক চরিত্রে তাঁকে দেখা যেত। যেকোনো ব্যাপারে সাংগঠনিক ক্ষমতা যেন তাঁর এক সহজাত বৈশিষ্ট্য। নিজের কিছু করার যেমন অদম্য আকাঙ্ক্ষা ছিল, তেমনি ছিল আইটি বিষয়ে গভীর আগ্রহ। পড়াশোনার পাশাপাশি ২০১০ সালে এই যাত্রা শুরু করেন আইটি প্রাঙ্গণে। কম্পিউটার, টেকনোলজি, ইন্টারনেট ও নিত্যনতুন আইটি বিষয়ে তিনি খুঁজে পান অপার সম্ভাবনা। বর্তমানে দেশে যেসব আইটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে শিক্ষার্থীরা কাজ শিখলেও আন্তর্জাতিক বাজারের নিত্যনতুন পরিবর্তনের সঙ্গে অনেকেই খাপ খাইয়ে নিতে পারছেন না। আবার জনমনে আইটি বিষয়ক নানা ভ্রান্ত ধারণার সুযোগ নিয়ে অনেকেই তাদের ফাঁদে ফেলছেন, ধোঁকা দিচ্ছেন। মো. আল আমিন এই সকল অভিজ্ঞতা থেকেই অনুভব করেছেন একটি মানসম্পন্ন আইটি প্রতিষ্ঠানের।

সমাজ ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তিনি চান দক্ষ প্রশিক্ষক  ও মেন্টর দ্বারা দক্ষ ফ্রিল্যান্সার তৈরি করতে, যাঁরা আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করবেন। বর্তমানে তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠান সারফেস আইটির মাধ্যমে সারা দেশব্যাপী বিভিন্ন ফ্রি কোর্স করাচ্ছেন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমআইএস-এ বিবিএ করা এ তরুণ ইতোমধ্যেই উদ্যোক্তা হিসেবে জন্ম দিয়েছেন সারফেস আইটি, সারফেস ইন্টেরিয়র, পারিজাত এন্টারপ্রাইজ, মিঠাই হাঁড়ির মতো কিছু প্রতিষ্ঠানের। প্রচলিত সামাজিক ব্যবস্থা অনুযায়ী পড়াশোনা করে চাকরির পরিবর্তে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নকে খুব ভালো চোখে দেখেননি তাঁর আত্মীয়-পরিজনেরা। বিবিএ চলাকালীন তিনি গ্রামীণফোনে কর্মরত ছিলেন, যা তাঁর দক্ষতা ও স্বপ্নকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছে। উদ্যোক্তা হওয়ার পথে আজকের বাংলাদেশে একজন উদ্যোক্তাকে সামাজিক, অর্থনৈতিক, পারিবারিকসহ নানা সংকটের সম্মুখীন হতে হয়। তিনি তাঁর সাফল্যের পথ বর্ণনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পরিবেশ এখনো উদ্যোক্তাবান্ধব হয়ে উঠতে পারেনি। তিনি তাঁর একাগ্রতা, চেষ্টা ও অধ্যবসায় নিয়ে এগিয়ে যেতে চান আরো অনেকদূর, তৈরি করতে চান বিশ্বমানের বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সার।