দেড় বছরেও শেষ হয়নি নতুন ভবন নির্মাণ

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৯, ২২:২৫

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দুইটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস নানা সমস্যায় জর্জরিত। জরাজীর্ণ ভবনে চরম দুরবস্থায় চলছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দুই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কার্যক্রম। পাশে নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও দীর্ঘদিনেও কাজ শেষ না হওয়ায় জীর্ণ ভবনগুলোতেই মারাত্মক ঝুঁকিতে চলছে দাপ্তরিক কাজ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার টিসিহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবনের দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার হয়নি। ঝুঁকি নিয়েই এ ভূমি অফিসে সরকারি কাজ চলে। প্রায় অর্ধশত বছরের পুরোনো ক্ষতবিক্ষত দেওয়াল ঘেরা ও জংধরা টিনের ছাউনির অফিসটি অত্যন্ত বেহাল! সামান্য বৃষ্টিতে টিনের ফুটো দিয়ে চালা থেকে ভেতরে পানি পড়ে। আস্তর খসে দেওয়ালের ইটও ক্ষয়ে যাচ্ছে। ইট ক্ষয়ে কোথাও দেওয়াল ফুটো হয়ে গেছে। খুবই নাজুক পরিবেশে অগত্যা কর্মচারিগণ অফিসে কাজ করেন। স্যাঁতসেঁতে অবস্থা ও বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হচ্ছে জায়গা-জমির দলিল ও রেকর্ডপত্র।

টিসিহাট ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চন্দ্রঘোনা কদমতলী, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া, মরিয়মনগরসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের ভূমির রাজস্ব আদায়, সরকারি জায়গা-জমির সংরক্ষণ, ভূমির নামজারি ও রেকর্ডপত্র সংশোধনসহ যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ চলে এ অফিসে। প্রতি বছর আদায় থেকে সরকারি তহবিলে কোটি টাকা জমা হয়।

তহশিলদার এস এম ছানাউল করিম জানান, দুরবস্থার মাঝেও সতর্কতার সঙ্গে অগত্যা কাজ করছি। জরাজীর্ণ অফিসে সরকারি রেকর্ডপত্র সংরক্ষণ করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের রানীরহাটের ঘাগড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও কাজ চলে একই অবস্থায়। নানা দুরবস্থার কারণে সংশ্লিষ্ট সরকারের দাপ্তরিক কাজের ব্যাঘাত ঘটছে। রাজানগর, হোসনাবাদ, লালানগর, দক্ষিণ রাজানগর, ইসলামপুর ইউনিয়নের সরকারি বেসরকারি জায়গা জমি ও ভূমি কর আদায় সংক্রান্ত কার্যক্রম এই অফিসে চলে। জরাজীর্ণ টিন শেডের এ ভূমি অফিসও চলছে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। বৃষ্টির সময় অফিসে পানি জমে যায়। চতুর্দিকে সীমানা প্রাচীর না থাকায় অফিসের অনেক জায়গাও বেদখল হয়ে গেছে। দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো ভূমি অফিসটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে গেলেও এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়নি।

ঘাগড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার নুরুল আবচার বলেন, দীর্ঘ ৪৮ বছরে ভূমি অফিস ভবনের কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি। বৃষ্টির সময় অফিসে পানি ঢুকে। বর্ষাকালে ভোগান্তির শেষ থাকে না। অফিসের কাজ এবং মূল্যবান রেকর্ডপত্র সংরক্ষণে আমাদের হিমশিম খেতে হয়।

জানা গেছে, সম্প্রতি রাঙ্গুনিয়ার কয়েকটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও নানা অবহেলার কারণে যথাসময়ে প্রকল্পের বাস্তবায়ন হয়নি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের অধীনে যথানিয়মে ঠিকাদার নিয়োগে গত ২০১৮ সনের মার্চ মাসে টিসি হাট ও ঘাগড়া দুটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রতিটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয় বরাদ্দের নতুন পাকা ভবনের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু কাজ চলছে ধীর গতিতে। দেড় বছরেও প্রকল্পের কাজ শেষ করা হয়নি। বর্তমানে নতুন ভবন নির্মাণ কাজ অনেকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। অর্ধ সমাপ্ত অবস্থায় রয়ে গেছে নতুন ভবন। এদিকে, ভবনের নির্মাণ কাজ যথাসময়ে শেষ না হওয়ার কারণে ঐ দুটি ভূমি অফিসের কার্যক্রম নতুন ভবনে স্থানান্তর করা যাচ্ছে না।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পুরবিতা চাকমা বলেন, উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি অফিস দুটির নতুন ভবন নির্মাণ কাজ চলছে। যথাসময়ে কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সমস্যা দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী দিদারুল আলম জানান, ঠিকাদারের অবহেলার কারণে ভূমি অফিসের পাকা ভবন নির্মাণ কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন করা যায়নি। শিগগিরই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।