যমুনার ভাঙনে বেড়ায় শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৯, ২২:২৯

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে যমুনা নদী ফুলে উঠেছে। সেই সঙ্গে বেড়া উপজেলার পাঁচটি গ্রামে ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে বসতভিটা, মসজিদ, পোলট্রি ফার্ম, ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ। ভাঙন আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষের ঘুমহীন রাত কাটাতে হচ্ছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া ভাঙনে শতাধিক বসতভিটা, ফসলি জমিসহ অসংখ্য ফলদ ও বনজ গাছ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। 

সমপ্রতি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাবনা প্রকল্প পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম, বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আনাম সিদ্দিকী, পৌর মেয়র আব্দুল বাতেন, বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ, বেড়া মডেল থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় প্রকল্প পরিচালক শহিদুল ইসলাম জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন। এদিকে বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগ মঙ্গলবার থেকে চরপেঁচাকোলা, দক্ষিণ চরপেঁচাকোলা, মোহনগঞ্জ, পাইখন্দ, ঘোপসেলন্দা ও নটাখোলায় ভাঙনকবলিত এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ নদীতে ফেলছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, যমুনার পশ্চিম পাড়ে বেড়ার হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের চরপেঁচাকোলা, পৌর এলাকার ৯নং ওয়ার্ডের পাইখন্দ, দক্ষিণ চরপেঁচাকোলা, মোহনগঞ্জ, রূপপুর ইউনিয়নের ঘোপসেলন্দা ও খানপুরা গ্রামে ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। যমুনার প্রচণ্ড স্রোতে ঘোপসেলন্দা ও খানপুরায় সরাসরি আঘাত করায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। ভাঙনে বসতভিটা, এলজিইডির পাকা সড়ক, ফসলি জমি, একটি মসজিদসহ অসংখ্য গাছ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে ঠাঁই না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে।

দক্ষিণ চরপেঁচাকোলা গ্রামের জিন্দার মন্ডল জানিয়েছেন, তিনি তার জীবনে নিজ গ্রামে নদীভাঙন দেখেননি। এমন কি বড়ো বড়ো বন্যায় হুড়াসাগর নদের পানি যমুনায় মিলিত হয়ে ভাটির দিকে প্রবাহিত হতে দেখে আসছেন। এবারই প্রথম দেখলেন যমুনার প্রবাহ প্রতিরক্ষা বাঁধে আছড়ে পড়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে একটি স্রোতধারা উলটোদিকে হুড়াসাগর নদের উজানে প্রবাহিত হচ্ছে। ঘূর্ণায়মান স্রোতে চোখের পলকে পাঁচটি বসতভিটা ও গাছসহ দেবে গভীর পানিতে তলিয়ে যেতে দেখেছেন। একইভাবে গত চার-পাঁচ দিনে ২৮ থেকে ৩০টি বসতভিটা দেবে গেছে। মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভাঙন আতঙ্কে গ্রামের মানুষকে নিদ্রাহীন রাত কাটাতে হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। 

বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ বলেন, যমুনার ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে ছয়টি পয়েন্টে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভাঙন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আনাম সিদ্দিকী বলেন, বন্যা ও নদীভাঙন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বিভাগ ভাঙনরোধে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করছে। বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।