ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়াই শুরু জাবির ৪২তম সিনেট অধিবেশন 

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৫, ২০:১৮

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এবারও ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়াই শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২তম বার্ষিক সিনেট অধিবেশন শুরু হয়েছে।

শনিবার (২৮ জুন) বিকেল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সিনেট হলে উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন শুরু হয়।

এদিকে ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়া শুরু হওয়া সিনেট অধিবেশন ‘অপূর্ণাঙ্গ’ আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা।  

জানা যায়, ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ- ১৯৭৩ অনুযায়ী জাবির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সিনেট। সেই সিনেটে অন্যান্য প্রতিনিধির সঙ্গে অধ্যাদেশের ১৯(১) এর (ক) ও ১৯ (২) ধারা মেনে জাকসু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা এবং উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনে সিনেটে পাঁচজন ছাত্র প্রতিনিধির বিষয়টি ৩৩ বছরেও নিশ্চিত করা হয়নি। তার প্রেক্ষিতে দীর্ঘ সময় ছাত্র-প্রতিনিধিদের মনোনীত সদস্য ছাড়াই সিনেটের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়ার প্রতিফলন ঘটেনি অভিযোগ ছাত্র নেতাদের। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বলেন, ৫ আগস্ট গনঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আমরা চেয়েছিলাম দ্রুততম সময়ে জাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নির্বাচন করা হোক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে এটা করতে পারত তবে কেন তারা এটা করলো না সেটা আমার বোধগম্য নয়। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি ছাড়া যে সিনেট অধিবেশন হচ্ছে সেখানে দাবি দেওয়ার বিষয়গুলো আসবে না বলে মনে করি। শিক্ষার্থী কল্যাণ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে আনার জন্য সিনেটে অবশ্যই ছাত্র প্রতিনিধি  থাকা দরকার ছিল।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়  শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহিবুর রহমান মুহিব বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে গণতান্ত্রিক চর্চার উদ্ভব হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের অন্যতম মাধ্যম হলো জাকসু নির্বাচন। কিন্তু বারবার তারিখ পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সেই চর্চার ধারাবাহিকতাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলো সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। সেখানে বার্ষিক বাজেট উত্থাপন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় এক্ট অনুসারে সিনেটে পাঁচজন ছাত্র প্রতিনিধি থাকার কথা থাকলেও, গত ৩৩ বছর ধরে সেই পথ রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অধিকার, সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে ভালোভাবে তুলে ধরতে পারে। ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়া সিনেট অধিবেশন পরিচালনা শিক্ষার্থীদের প্রতি এক ধরনের অবহেলা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

শাখা গনতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, গত ৩৩ বছর ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। যার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নিশ্চিত হয়নি। ফলে সিনেট অধিবেশনে শিক্ষার্থীদের আশা-আকাঙ্ক্ষার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। আমরা মনে করেছিলাম, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যে প্রশাসন দায়িত্ব নিয়েছে, তারা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অপূর্ণতাকে পূর্ণতায় রূপ দিবে। জাকসু নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে সিনেটে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নিশ্চিত করবে। তবে প্রতিবারের মতো আমরা আবারও আশাহত হয়েছি।

ইত্তেফাক/এমএএস