বন্যার্তদের সহায়তায় ‘ফুড ব্যাংক’!

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৯, ২২:৩২

যমুনায় পানি কমা অব্যাহত থাকলেও চৌহালীর অনেক ঘরবাড়িতে রয়েছে পানি। আর বন্যার্ত অধিকাংশ মানুষের ভাগ্যে জুটছে না প্রয়োজনীয় ত্রাণ। তবে কৃষিজীবী অসহায়দের গড়া ‘ফুড ব্যাংক’ থেকে চরাঞ্চলের বন্যা দুর্গতদের মধ্যে অল্প করে হলেও কিছু পরিবার পেয়েছে ত্রাণ।

ব্যতিক্রমী এই ব্যাংক থেকে মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ঘোরজান ইউনিয়নের দক্ষিণ বরংগাইল চরে দ্বিতীয় দফায় আরো ২০টি পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে আট কেজি করে ১৬০ কেজি চাল। ঐ গ্রামের ৪০ জন অসহায় সচেতন কৃষক ও কৃষানি নিজেদের উদ্যোগে নিজ নিজ বাড়ি থেকে আধা কেজি/এক কেজি করে প্রতি মাসে চাল উত্তোলন করে তা ফুড ব্যাংকে গচ্ছিত করে। যা দুর্যোগকালীন সময় এলাকার অসহায় ও বিপদগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

ফুড ব্যাংকের উদ্যোক্তা ও এর সভাপতি বরংগাইল গ্রামের কৃষি শ্রমিক বৃদ্ধা কোহিনুর খাতুন জানান, আমরা নিজেদের কথা চিন্তা করে ৪০ জন এক হয়েছি। অসহায়রাও যে বন্যা দুর্যোগে বিপদে পড়াদের পাশে দাঁড়াতে পারে তারই প্রমাণ করেছি ফুড ব্যাংক তৈরি করে। আমরা দেড় বছর আগে থেকে এই ফুড ব্যাংকে চাল জমা করছি। তারা জানান, গত দুই-তিন মাস আগে গ্রামের দুই মেয়ের বিয়েতে ১০০ কেজি চাল তাদের উপহার দিয়েছি। এছাড়া জমা চাল বিক্রি করে ১৫ হাজার টাকা ব্যাংকে রেখেছি। তা দিয়েও আমরা মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াব।

এ দিকে, বন্যার এই সময়ে ফুড ব্যাংকের চাল পেয়ে গ্রামের জাহানারা খাতুন, ফুলবানু ও সুমি খাতুন জানান, বন্যায় বর্তমানে ঘরবাড়িতে পানি উঠে গেছে। কেউ খোঁজ নেয়নি। ফুড ব্যাংকের মালিকরা অসহায় হলেও তাদের ব্যাংক থেকে আমাদের আট কেজি করে চাল দিয়েছে। অভাগীদের পাশে অভাগীরা এগিয়ে আসায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

চৌহালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক সরকার জানান, আসলেই এটা মানবতায় অবাক করা ব্যাংক। পুরো চৌহালী উপজেলা যমুনার দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। এমন ব্যাংক প্রতিটি গ্রামে ছড়িয়ে দিতে পারলে দুর্যোগের সময় অন্তত প্রাথমিকভাবে কারো মুখোপেক্ষী হতে হবে না। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নিজেদের জমানো টাকা দিয়েই কিছুটা হলে ভূমিকা রাখতে পারবে।

এদিকে, ফুড ব্যাংকের উদ্যোগের কথা শুনে এগিয়ে এসেছে এনজিও মানব মুক্তি সংস্থা। তারা তাদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে বরংগাইল কমিউনিটি বেজ অর্গানাইজেশন (সিবিও) কমিটি করে দিয়ে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছে।

মানব মুক্তি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও উন্নয়ন কর্মী হাবিবুল্লাহ বাহার জানান, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব থেকে মুক্ত হতে চরাঞ্চলের অসহায় মানুষ যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতেই  অভিভূত। আমরা তাদের উদ্যোগের বিষয়টি জেনে সার্বিক সহযোগিতা করছি।