এবারের ঈদুল আজহায় খুলনা বিভাগে কোরবানির পশু সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। ইতিমধ্যে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সোয়া এক লাখ কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি হওয়ায় এবার কোরবানির পশুর দামও কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, এক মাস আগেই পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাট বসানো ও বেচাকেনার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।
খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, আসন্ন ঈদুল আজহায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় প্রায় ছয় লাখ পশু কোরবানির সম্ভাবনা রয়েছে। বিপরীতে খামারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে ৭ লাখ ৩১ হাজার ৮৪৪টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে আরো ১ লাখ ২৫ হাজার পশু দেশের অন্য বিভাগে সরবরাহ করা হবে। খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় মোট ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৯ জন খামারি রয়েছেন।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের সূত্র মতে, ৭ লাখ ৩১ হাজার ৮৪৪টি কোরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে ষাঁড় ২ লাখ ৮০ হাজার ৪৮টি, বলদ ৩১ হাজার ১৫০টি, গাভি (বাচ্চা উত্পাদনে অক্ষম) ৩৩ হাজার ৩৭৯টি, মহিষ ১৯ হাজার ৩৩টি, ছাগল ৩ লাখ ৭৫ হাজার ২৭০টি ও ভেড়া ৯ হাজার ৪৪৩টি। অন্যান্য গবাদি পশু আছে ৬২১টি।
তেরখাদার পূর্ব কাটেঙ্গা এলাকার খামারি রসুল মোল্লা বলেন, কোরাবানিকে সামনে রেখে বিদেশি বিভিন্ন জাতের সাতটি গরু লালন-পালন করেছি। এবার ভালো দাম পাবো বলে আশা করছি। মানভেদে প্রতিটি গরুর দাম ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হবে। তার মতো খুলনা অঞ্চলের খামারিরা প্রতিদিন খাবার হিসাবে খৈল, ভুসি, কুড়ো, ফিড ও কাঁচা ঘাস দিয়ে পশু মোটাতাজা করে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করছেন।
খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদ আহমেদ খান বলেন, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় চাহিদা অনুযায়ী খামারগুলোয় পর্যাপ্ত সংখ্যক পশু আছে। অভ্যন্তরীণ উত্পাদিত পশু দিয়েই কোরবানির পশুর চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় খামারি লাভবান হবেন।
