কালীগঙ্গা আর ধলেশ্বরী নদীতে পানি বাড়ার ফলে ঘিওরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আর তাই লোকজন বৃহত্তম নৌকার হাট ঘিওরে ভিড় করছেন নৌকা কিনতে। এতে হাট বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে।
নৌকাশিল্পের জন্য বিখ্যাত ঘিওরের কারিগরদের তৈরি নৌকা এ উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি হচ্ছে হরিরামপুর, শিবালয়, দৌলতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায়। এদিকে অন্য বছরের মতো এবারও বর্ষার শুরুতেই ঘিওর উপজেলা সদরের প্রধান ঈদগাহ মাঠে নৌকা বিক্রির হাট জমজমাট হয়ে উঠেছে। ঐ হাটে ক্রেতাদের জন্য থরে থরে সাজানো রয়েছে বাহারি কয়েকশ নৌকা।
ঘিওর বাজারের কাঠমিস্ত্রি রবি সূত্রধর, নিলকমল সূত্রধর, মাসুদ ও হারেছ জানান, বর্ষা মৌসুমে তারা নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন। সপ্তাহে তাদের কারখানা থেকে ৮-১০টি নৌকা ঘিওর, দৌলতপুর, বরংগাইল, তরা ও মহাদেবপুর হাটে বিক্রি করা হয়। বর্তমানে লোহা ও কাঠের দাম বেড়ে যাওয়ায় নৌকা তৈরিতে খরচ বেড়েছে বলে জানান তারা। তবে ঘিওরের বানিয়াজুড়ি, বালিয়াডাঙ্গা, সিংজুড়ি ও বেগুন নারচি, দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর, বাঁচামারা, বাঘুটিয়া, চরকাটারি, খলসি, ধামশ্বর, কলিয়া ও বিনোদপুর এবং শিবালয়ের কয়েকটি গ্রামের মানুষ বর্ষায় জমায়েত হন ঘিওরের নৌকার হাটে।
সপ্তাহের প্রতি বুধবার হাটের দিন হওয়ায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্রেতারা নৌকা সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখেন। এছাড়াও প্রায় সারা সপ্তাহজুড়েই কম-বেশি বিক্রি হয় নৌকা।
ঘিওর হাটে নৌকা বিক্রি করতে আসা খগেন সূত্রধর জানান, ১০ হাত লম্বা এবং দুই হাত প্রস্থের একটি নৌকার মূল্য ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা। এরকম ১১/৩ সাইজের নৌকা ৪ হাজার, ১২/৩ সাইজের সাড়ে ৪ হাজার, ১৩/৩ সাইজের ৫ হাজার, ১৪/৩ সাইজের সাড়ে ৫ হাজার এবং ১৫/৩ সাইজের নৌকা বিক্রি করেন ৬ হাজার টাকায়।
ইউপি চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম টুটুল জানান, প্রায় ২৫০ বছর ধরে ঐতিহ্যবাহী ঘিওর হাটে বর্ষা মৌসুমে নৌকার কদর বাড়ে। ঘিওর উপজেলাসহ আশপাশের প্রায় ১০টি উপজেলায় এই হাট থেকে নৌকা কিনে নেয়। সরকারিভাবে নৌকার কারিগররা যদি স্বল্প সুদে ঋণ পেতো তাহলে ঐতিহ্যবাহী ঘিওর হাটে নৌকার ঐতিহ্যটা ধরে রাখতে পারবে।
