বার্বাডোজে মাত্র তিন দিনেই শেষ হয়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম টেস্টে একতরফা হার হজম করেছে স্বাগতিক ক্যারিবীয়রা। তবে মাঠের ফলাফল ছাপিয়ে ম্যাচজুড়ে আলোচনায় উঠে আসে টিভি আম্পায়ার আদ্রিয়ান হোল্ডস্টকের একাধিক সিদ্ধান্ত। সেসব সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ ঝাড়েন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের প্রধান কোচ ড্যারেন সামি। আর এতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) শৃঙ্খলাবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শাস্তি পেয়েছেন সাবেক এই অধিনায়ক।
ম্যাচ শেষে সরাসরি টিভি আম্পায়ারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সামি বলেন, ‘এই নির্দিষ্ট আম্পায়ারকে ঘিরে সন্দেহটা আমার প্রথম এসেছে ইংল্যান্ড সফরের সময়। আমরা শুধু চাই, সিদ্ধান্তে যেন ধারাবাহিকতা থাকে। যখন কোনো পরিস্থিতি নিয়ে সংশয় থাকে, সেটি যেন সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনি এমন অবস্থায় যেতে চান না যেখানে নির্দিষ্ট কোনো আম্পায়ারকে নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। তবে একের পর এক সিদ্ধান্ত যখন একই দলের বিপক্ষে যায়, তখন প্রশ্ন ওঠে। আমরা বলের গতিপথে স্পষ্ট বিচ্যুতি দেখেছি, যা প্রমাণ করে বলটি প্যাডে লাগার আগে ব্যাটে লেগেছিল। আমি জানি না তিনি কী দেখেছেন, তবে আমরা যে চিত্র দেখেছি, তা দুই দলের জন্য সমান ন্যায্য মনে হয়নি।’
এই ধরনের মন্তব্য আইসিসির কোড অব কন্ডাক্টের ২.৭ ধারা অনুযায়ী লেভেল-১ পর্যায়ের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে ম্যাচ অফিসিয়ালদের বিরুদ্ধে সরাসরি বা অযাচিত মন্তব্য নিষিদ্ধ। তাই সামির ম্যাচ ফি’র ১৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে এবং তার নামের পাশে যোগ হয়েছে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট। গত ২৪ মাসে এটি তার প্রথম শাস্তি। সাধারণত লেভেল-১ অপরাধে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ম্যাচ ফি কাটা ও এক বা দুইটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়ার বিধান রয়েছে।
ম্যাচ রেফারি জাভাগাল শ্রীনাথ এই অভিযোগ এনে সামিকে শাস্তি দিয়েছেন, যেটি ক্যারিবীয় কোচ বিনা আপত্তিতে মেনে নিয়েছেন। তবে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচ শেষে ক্যারিবীয় অধিনায়ক রোস্টন চেজও অসন্তোষ প্রকাশ করলেও তিনি কোনো শাস্তির মুখে পড়েননি।
এদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরের অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা টিভি আম্পায়ার আদ্রিয়ান হোল্ডস্টক সিরিজের বাকি দুটি টেস্টেও অন-ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। গ্রানাডা ও জ্যামাইকার ওই দুই ম্যাচে টিভি আম্পায়ার হিসেবে থাকবেন নিতীন মেনন ও রিচার্ড কেটেলবোরো।
প্রথম টেস্টে বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল চেজকে দেওয়া এলবিডব্লিউ আউট—যেখানে আল্ট্রা এজ প্রযুক্তিতে দেখা যায় বলটি প্যাডে লাগার আগে ব্যাটে লেগেছিল। একইভাবে, অজি কিপার অ্যালেক্স ক্যারির ধরা শাই হোপের ক্যাচটি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়—বলটি মাটিতে ছোঁয়ার মতো দৃশ্য দেখা গেলেও আউটের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন টিভি আম্পায়ার। এসব সিদ্ধান্তই ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালে।

