শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মুলনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আ. জলিল মাদবর দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। এরপরও তিনি নিয়মিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক ও কাগজপত্রেও তিনি স্বাক্ষর করছেন।
জাজিরা উপজেলা পরিষদ সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ইউপি নির্বাচনে আ. জলিল মাদবর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ব্যবসা–সংক্রান্ত একটি চেক জালিয়াতি মামলায় গত বছর ১৯ মে শরীয়তপুরের যুগ্ম দায়রা জজ প্রথম আদালত তাকে দুই মাসের কারাদণ্ড ও এক লাখ সাতাশি হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। পরবর্তীতে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান।
এরপর জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান। সেই অনুরোধের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগে চিঠি পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০০৯ সালের ইউনিয়ন পরিষদ আইন, ৩৪(৪) (শ) (ঘ) ধারা অনুযায়ী এবং জেলা প্রশাসকের সুপারিশক্রমে গত বছরের ১৯ জুন তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে। একই সঙ্গে কেন তাকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করা হবে না, সে বিষয়ে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আ. জলিল মাদবর স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সরকার পতনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে তিনি আবার পরিষদে এসে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি উন্নয়ন প্রকল্পের চেক, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রে স্বাক্ষর করছেন।
মুলনা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব লিপি আক্তার বলেন, “চেয়ারম্যান একটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যান এবং বরখাস্ত হন। পরবর্তীতে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার হয়েছে কি না, তা আমরা জানি না। এ সংক্রান্ত কোনো অফিসিয়াল কাগজ তিনি আমাদের দেননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়েও তা পাওয়া যায়নি। এখন তিনি পরিষদে এসে দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা তাকে বাধা দেওয়ার সাহস পাই না। বিষয়টি ইউএনওকে জানানো হয়েছে।”
ইউপি চেয়ারম্যান আ. জলিল মাদবর বলেন, “ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণে আমার বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলা হয়েছিল। রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে গিয়েছিলাম। পরে উচ্চ আদালতের আশ্রয় নিয়েছি। আদালতের আদেশ অনুযায়ীই দায়িত্ব পালন করছি।” তবে তিনি সংশ্লিষ্ট আদালতের কোনো আদেশ দেখাতে পারেননি এবং কোন আদালত থেকে কখন এমন আদেশ পেয়েছেন, সেটিও তিনি জানাতে পারেননি।
জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবেরী রায় বলেন, “মুলনার ইউপি চেয়ারম্যান দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন। পরে তাকে পুনর্বহাল করা হয়েছে—এমন কোনো কাগজ আমার কাছে নেই। ওই ইউপিতে একজন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করছেন, তার নামেই প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। যদি তিনি প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে দায়িত্ব পালন করে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
