এক মাস পেরিয়েও সিংগাইরের রাস্তায় ফেলে যাওয়া অজ্ঞাতনামা এক বাকপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধা (৭০) এর পরিচয় মেলেনি। মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের পশ্চিম পাশে খোলা রাস্তার ধারে বৃষ্টিতে ভেজা, মশার কামড় খেয়ে রাতের অন্ধকারে কাঁদতে দেখা যায় তাকে। তবে বৃদ্ধাটি কথা বলতে অক্ষম।
স্থানীয় উৎসুক পথচারীরা জানান, বিকেলে একটি অটো রিকশা সেখানে এসে থামলে অল্প বয়সী এক নারী ও পুরুষ (সম্ভবত তার ছেলে ও বউ) তাকে নামিয়ে দিয়ে অটোটি দ্রুত চলে যায়। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় এক সাংবাদিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান সোহাগকে অবগত করলে তিনি থানার ওসিকে বিষয়টি দেখতে বলেন।
পরে থানার ওসি জে ও এম তৌফিক আজম ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানে নিয়মিত খোঁজখবর নেন এবং তার স্বজনদের খুঁজতে থাকেন। খুঁজে না পেয়ে চার দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে সুস্থ করার পর উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে তাকে জয়মন্টপ ইউনিয়নের ‘সুবার্তা ট্রাস্টের খান বানিয়ারা প্রবীণ সেবা কেন্দ্র’-এর শাখায় সাময়িক রাখার ব্যবস্থা করা হয়। ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ সম্মতি জানায় এবং প্রশাসন নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছে।
‘সুবার্তা ট্রাস্ট’ কর্তৃপক্ষ সোমবার (৩০ জুন) দুপুরে সিংগাইর প্রেসক্লাবে এক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি অবগত করে। চিঠিতে জানানো হয়, গত ৩০ মে রাত ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের পশ্চিম পাশে বৃষ্টির মধ্যে ওই নারীকে উদ্ধার করে সিংগাইর থানা পুলিশ। এ সংক্রান্তে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং-১৭১) করা হয়। বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় এক মাসেও তার পরিচয় শনাক্ত হয়নি এবং তাকে ফেলে যাওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সাধারণ সম্পাদক শেলীনা আক্তার জানান, অজ্ঞাত নারীর কথা বলতে না পারায় ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচরণ থেকে ধারণা করা হচ্ছে তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী। আমরা তাকে সাধ্যমতো চিকিৎসা, ভরণপোষণসহ যাবতীয় দায়িত্ব পালন করে আসছি। তার পরিবার যদি থাকে, তাদের সন্ধানে মিডিয়ার মাধ্যমে পরিচয় খুঁজে বের করার জন্য সহায়তা কামনা করা হচ্ছে।
