চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ২৪ হাজার ১২৪ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লিঋণ বিতরণের নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটি গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে ২১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে ২৩ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা। অর্থাত্ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ দেওয়া হয়েছিল।
গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন এবং বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য ১০ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা, বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য ১৩ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, এবার কৃষিঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন বিষয় সংযোজন করা হয়েছে। এগুলো হলো—ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব শাখা এবং এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কৃষিঋণ বিতরণ করতে পারবে। কাজুবাদাম, রামবুটান চাষে ঋণ প্রদান, কচুরিপানায় ডাবল বেড পদ্ধতিতে আলু চাষ করতেও ঋণ দেওয়া হবে। এছাড়াও গাভি পালন, গরু মোটাতাজাকরণ এবং ছাগল ভেড়া পালনের জন্য ঋণ প্রদান, বাণিজ্যিকভাবে রেশম উত্পাদনে ঋণ দেওয়া হবে। এছাড়াও, শস্য/ফসল উত্পাদনের জন্য একর প্রতি ঋণ বিতরণ করা হবে। তিনি বলেন, সরকার কৃষি ও কৃষিবান্ধব নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যের তিনটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে কৃষি ও পল্লিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনটি অগ্রাধিকার বিষয় হলো দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধা মুক্তি ও সুস্বাস্থ্য অর্জন।
তিনি জানান, বিগত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৩ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লিঋণ বিতরণ করা হয়েছিল। এটা ছিল মোট লক্ষ্যমাত্রার ১০৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। বিগত অর্থবছরে ৩৮ লাখ ৮৩ হাজার ৪২৪ জন কৃষকের মধ্যে এই ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৯ লাখ ৮৯ হাজার ২৩৭ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ১৬ হাজার ৩২২ কোটি টাকা এবং চর, হাওর ও অনগ্রসর এলাকায় ৯ হাজার ৯৫০ জন কৃষক প্রায় ৩১ কোটি ৬১ লাখ টাকা কৃষি ও পল্লিঋণ পেয়েছেন।
