‘একদলীয়’ শাসনের বিরোধিতা করে নতুন দল গঠনের হুমকি মাস্কের

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৫, ১১:৩৬

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠেছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও ধনকুবের ইলন মাস্ক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত একটি উচ্চ ব্যয়সংবলিত অর্থনৈতিক বিল—যেটিকে ট্রাম্প ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’ বলে অভিহিত করেছেন—তা পাস হলে পরদিনই ‘আমেরিকা পার্টি’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের হুমকি দিয়েছেন মাস্ক।

মাস্কের ভাষায়, এই বিল কেবলমাত্র একটি ব্যয়বহুল ‘পাগলামি’। তার মতে, এটি প্রমাণ করে, যুক্তরাষ্ট্রে আসলে দুটি রাজনৈতিক দল নেই—ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান নয়, কার্যত একটি মাত্র দল চলছে, যেটি আসলে একদলীয় শাসনের প্রতিফলন। তার অভিযোগ, এই ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত কণ্ঠস্বর হারিয়ে যাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একাধিক পোস্টে ইলন মাস্ক প্রস্তাবিত বিলটির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এটি বাজে খরচে ভরা, দেশের জন্য কৌশলগতভাবে ক্ষতিকর এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ আরও বাড়িয়ে দেবে। মাস্কের আশঙ্কা, এই বিলের কারণে ভবিষ্যতবান্ধব সবুজ জ্বালানি প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হবে এবং অতীতকেন্দ্রিক শিল্প খাতকে অপ্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়া হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, রিপাবলিকান পার্টি যদি এই বিল সমর্থন করে, তবে তা হবে রাজনৈতিক আত্মঘাত।

বিলটি নিয়ে এখন মার্কিন সিনেটে তীব্র বিতর্ক চলছে। এতে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে প্রবর্তিত করছাড় স্থায়ী করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং অবৈধ অভিবাসীদের ফেরতের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এই বিল বাস্তবায়িত হলে দেশের জাতীয় ঋণ কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার বাড়বে এবং দরিদ্রদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে ব্যাপক কাটছাঁট করতে হবে।

বিল ইস্যুতে মাস্ক ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্পর্ক এখন স্পষ্টভাবে শীতল। মাস্ক একসময় ট্রাম্প প্রশাসনের অধীন সরকারি ব্যয় কমানোর একটি উদ্যোগ—Department of Government Efficiency (DGE)—এর প্রধান ছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রকাশ্যে মাস্ককে ‘অস্বাভাবিক’ বলেই উল্লেখ করেছেন এবং তার মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরকারি চুক্তি বাতিলের হুমকি দিয়েছেন। যদিও এর মধ্যেই গতকাল সোমবার ট্রাম্প মাস্ককে আবারও ‘অসাধারণ মানুষ’ বলেও প্রশংসা করেছেন।

ইলন মাস্কের ঘোষিত ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠনের হুমকি অনেকের কাছেই একটি নতুন রাজনৈতিক আন্দোলনের ইঙ্গিত বলে মনে হচ্ছে। মাস্ক তার এক্স অ্যাকাউন্টে চালানো এক জনমত জরিপে জানান, ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা একটি নতুন রাজনৈতিক দলের পক্ষে মত দিয়েছেন।

এখন প্রশ্ন—এই প্রস্তাবিত বিল যদি পাস হয়, তবে কি ইলন মাস্ক তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করবেন, নাকি এটি কেবল একটি চাপ তৈরির কৌশল ছিল? সব নজর এখন সিনেটের সিদ্ধান্তের দিকে।

ইত্তেফাক/টিএইচ