জয় দিয়ে শুরু বাংলাদেশের

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৯, ২৩:০১

অনুশীলন ম্যাচ মানে, গতকালকের খেলাটি ছিল একেবারেই অনানুষ্ঠানিক। দুই দলের খেলোয়াড়রাই সিরিজ শুরুর আগে নিজেদের অবস্থানটা যাচাই করে দেখতে চেয়েছিল। তাই অস্বীকৃত একটি ম্যাচ খেলেছে শ্রীলঙ্কা বোর্ড সভাপতি একাদশ ও বাংলাদেশ দল।

অস্বীকৃত ম্যাচ হলেও জয় তো জয়ই। জয় মানেই একটু আত্মবিশ্বাস। আর সেই আত্মবিশ্বাসটা পেয়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করা স্বাগতিক দল ৮ উইকেটে ২৮২ রান করেছিল। জবাবে বাংলাদেশ ১১ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।

আগে ব্যাট করতে নামা শ্রীলঙ্কা বোর্ড সভাপতি একাদশকে শুরুতেই জোড়া ধাক্কা দেন রুবেল হোসেন। দলীয় ১ রানেই তুলে নেন তিনি নিরোশান ডিকওয়েলার উইকেট। এরপর ২৮ রানে ফেরেন ১৪ বলে ২ করা ফার্নান্দো। রুবেলের পরপরই আঘাত হেনে গুনাথিলাকার উইকেট তুলে নেন তাসকিন আহমেদ। এখান থেকে একটা জুটি করে রাজাপাকসা ও সিহান জয়াসুরিয়া টেনে তোলেন স্বাগতিক দলকে। দুই জনকেই আউট করেন সৌম্য সরকার। এরপর দ্রুত পেরেরাকে আউট করেন মুস্তাফিজুর রহমান।

তখনও শ্রীলঙ্কান দলটির রান খুব বেশি নয়। কিন্তু এখান থেকে মারকুটে এক ইনিংস খেলেন দাসুন সানাকা। তিনি ৬৩ বলে ৬টি চার ও ৬টি ছক্কায় ৮৬ রান করেন। ফলে ২৮২ রানের বড়ো সংগ্রহ পায় তারা।

জবাবে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল মাঝারি মানের। ৫৮ রানে ফিরে আসেন দুই ওপেনার। তামিম ৩৭ ও সৌম্য ১৩ রান করেন। এরপর মূল কাজটা করে দেন মোহাম্মদ মিঠুন ও মুশফিকুর রহিম। মিঠুন ১০০ বলে ১১টি চার ও একটি ছক্কায় ৯১ রানের ইনিংস খেলেন। অন্য দিকে তার আগেই ৫০ রান করে ফিরে আসেন মুশফিকুর রহিম। তখনও বাংলাদেশ দলের জয় বেশ অনিশ্চিত। এর মাঝে মাহমুদউল্লাহ ৩৩ রানে করে ফিরে আসেন।

শেষ ২৪ বলে দরকার ছিল ২১ রান। এই অবস্থায় ফার্নান্দোর করা ওভার থেকে মাত্র ৪ রান আসে। ফলে শেষ ১৮ বলে ১৭ রান দরকার ছিল বাংলাদেশের। আর এখান থেকেই পরের ৭ বলে ১৯ রান নিয়ে ফল নিশ্চিত করে দেন মোসাদ্দেক ও সাব্বির।

সাব্বির ২৬ বলে ৫টি চারে সাজানো ৩১ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। বিপরীতে সৈকত ১০ বলে ৩টি চারে সাজানো ১৫ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের তিনটি ওয়ানডের সিরিজ শুরু হবে ২৬ তারিখ। ২৮ জুলাই ও ৩১ জুলাই শেষ দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সব কটি ম্যাচ কলম্বোতে হবে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

শ্রীলঙ্কা বোর্ড সভাপতি একাদশ : ৫০ ওভারে ২৮২/৮ (সানাকা ৮৬, সিহান জয়াসুরিয়া ৫৬, রাজাপাকসা ৩২, হাসারাঙ্গা ২৮, গুনাথিলাকা ২৬; রুবেল ২/৩১, তাসকিন ১/৫৭, মুস্তাফিজ ১/২৯, মোসাদ্দেক ০/২৫, মিরাজ ০/২৫, মাহমুদউল্লাহ ০/১৫, সৌম্য ২/২৯, তাইজুল ০/৪২, ফরহাদ রেজা ১/২২)।

বাংলাদেশ : ৪৮.১ ওভারে ২৮৫/৫ (তামিম ৩৭, সৌম্য ১৩, মিঠুন ৯১, মুশফিক ৫০, মাহমুদউল্লাহ ৩৩, সাব্বির ৩১*, মোসাদ্দেক ১৫*; লাহিরু কুমারা ২/২৬, হাসারাঙ্গা ১/৩৯, আকিলা ১/৪৭, রাজিথা ১/৫৭)।

ফল : বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী