সন্তান জন্মের আগেই না ফেরার দেশে জার্মান প্রিন্স

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৫, ১৪:৩২

জার্মানির সাবেক রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারাল্ড ভন হোহেনৎসোলার্ন হঠাৎ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। ৬৩ বছর বয়সী এই জার্মান প্রিন্স নামিবিয়ায় সফরকালীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। দুঃখের বিষয় কয়েকদিনের মধ্যে প্রিন্সের প্রথম সন্তানের জন্ম হওয়ার কথা রয়েছে। খবর এনডিটিভির।

বুধবার (২ জুলাই) এই হৃদয়বিদারক খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন তার স্ত্রী, প্রিন্সেস জোসেফা ভন হোহেনৎসোলার্ন। তিনি লিখেছেন, 'প্রিয় লিওনবার্গবাসী, আমি গভীর শোক নিয়ে আজ লিখতে বসেছি। আমার প্রিয় স্বামী হ্যারাল্ড ভন হোহেনৎসোলার্ন সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এই ক্ষতি আমার হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।'

বর্তমানে জোসেফা জার্মানির বাডেন-ভ্যুর্টেমবার্গ রাজ্যের লিওনবার্গ শহরের মেয়র হিসেবে পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে রয়েছেন। তবে স্বামীর মৃত্যুতে তিনি নির্বাচনী প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। নিজের পোস্টে তিনি আরও বলেন, 'আমি শোক পালনের, বিদায় জানানোর এবং আমাদের অনাগত সন্তানের জন্য পাশে থাকার সময় চাই।'

প্রিন্সেস জোসেফা তার শোকবার্তার সঙ্গে স্বামীর সঙ্গে তোলা কিছু স্মৃতিময় ছবিও শেয়ার করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের আগে প্রিন্সেস উপাধি ছিল না জোসেফার; হ্যারাল্ডের সঙ্গে বিয়ের পর তিনি এই উপাধি লাভ করেন।

 
 
 
 
 
View this post on Instagram
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

A post shared by Josefa v. Hohenzollern (@josefa.vhohenzollern)

হ্যারাল্ড জার্মানির ঐতিহ্যবাহী রাজবংশ হোহেনৎসোলার্নের একজন সদস্য ছিলেন। এই রাজবংশের ইতিহাস ১০৬১ সাল থেকেই প্রসিদ্ধ এবং ব্রান্ডেনবুর্গ, প্রুশিয়া, রোমানিয়া ও জার্মান সাম্রাজ্যের সঙ্গে এর গভীর যোগাযোগ রয়েছে। যদিও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিপ্লবের সময় রাজবংশটি ক্ষমতাচ্যুত হয়, তবুও এর দুটি শাখা এখনও ইউরোপীয় অভিজাত সমাজে টিকে আছে। বর্তমানে প্রুশিয়ার শাখার নেতৃত্ব দিচ্ছেন জর্জ ফ্রিডরিখ এবং সোয়াবিয়ান শাখার নেতৃত্বে রয়েছেন কার্ল ফ্রিডরিখ।

হ্যারাল্ড ও জোসেফার পরিচয় হয় ২০২২ সালে এক বাণিজ্য মেলায়। স্থানীয়দের কাছে ‘সংগীতপ্রেমী মেয়র’ হিসেবে পরিচিত জোসেফা লিওনবার্গে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নেন নিয়মিত। ২০২০ সালে তিনি আর্থিক মেয়র পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ২০২১ সালের মে মাসে নির্বাচনে জয়লাভ করে।

ইত্তেফাক/টিএইচ