সব মহল থেকে গণপিটুনির মতো অপরাধ বন্ধের আহ্বান জানানো সত্যেও থামেনি এই বিপজ্জনক অপচর্চা। পুলিশের মাইকিং এবং বেশ কয়েক স্থানে পিটুনির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতার সত্ত্বেও অন্যদের নিবৃত করা যাচ্ছে না। গণপিটুনিতে সাত জেলায় আরো ১৩ জনের আহত হবার দিয়েছেন ইত্তেফাকের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা।
ঈশ্বরদীতে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ছেলেধরা সন্দেহে ২ জনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন এলাকাবাসী। গতকাল বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগর ওয়াবদা গেটের সামনে মোহাম্মদ লোকমান আলি (৪৮) কে এবং সোমবার রাতে একই ইউনিয়নের মানিকনগরে মানসিক প্রতিবন্ধী নারী মিনারাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছেন এলাকাবাসী।
অন্যদিকে, ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ছেলেধরা সন্দেহে মনজিলা আক্তার সাথী (২৫) নামে এক নারীকে আটকের পর পুলিশের কাছে সোর্পদ করেছে স্থানীয়রা। গতকাল সকালে উপজেলার বাগমারা লাইসিয়াম ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে থেকে ওই নারীকে আটক করে এলাকাবাসী। আটককৃত ওই নারী খুলনা জেলার বাসিন্দা। তিনি কেরানীগঞ্জের রুহিতপুরে ভাড়া থাকেন বলে জানিয়েছেন।
এছাড়া ‘ছেলে ধরা’ সন্দেহে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বৈঠাভাঙ্গা এলাকায় ৪ যুবককে গণপিটুনি দিয়েছে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে নিজ অফিস কক্ষে নিলে বিক্ষুব্ধ জনতা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মিঠুকেও অবরুদ্ধ করে রাখে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের উপরও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে আটক ৪ যুবকের ব্যবহূত পিক-আপভ্যানে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৪ ঘন্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। আটক যুবকেরা হলো-- গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের কর্ণিপাড়া গ্রামের হযরত আলী প্রামাণিকের ছেলে ফাহিম প্রামাণিক (২৪), পার ধুনট মধ্যপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে লুত্ফর রহমান (৩৫), ধুনট জোড়শিমুল গ্রামের নজির হোসেনের ছেলে দুলাল হোসেন (২২) ও তার ভাই নিয়ামুল হোসেন (৩৬)।
পঞ্চগড়ে ছেলেধরা সন্দেহে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে এরা থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে একজনের নাম পরিচয় জানা গেছে। এরা ৩ জনই মানসিক ভারসাম্যহীন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অন্যদিকে, পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের জয় বাংলা বাজারে ছেলে ধরা সন্দেহে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীকে পিটুনি দিয়ে কলাপাড়া থানা পুলিশে সোপর্দ করেছে গ্রামবাসী। মঙ্গলবার দুপুরে জয় বাংলা বাজারে ঘুরতে দেখে তাকে আটক করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গ্রামবাসীরা।
এর বাইরে কুড়িগ্রামের উলিপুরে ছেলে ধরা সন্দেহে বাবু মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে, সোমবার রাতে উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের বুড়াবুড়ি বাজারে।
অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে একজনকে গণপিটুনি দিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ভোরে সদর উপজেলার পাইকপাড়া দারুল উলুম কওমী মাদরাসায় এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গণপিটুনির শিকার যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। আহত আলম পৌর এলাকার গয়লা বটতলা এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে।
বিভিন্ন স্থানে গ্রেফতার ২৭:টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে ছেলে ধরা সন্দেহে এক ভ্যান চালককে গণপিটুনি দেয়ার ঘটনায় সোমবার রাতে কালিহাতীর বিভিন্ন স্থান থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শফিকুল ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানান। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কালিহাতী উপজেলার নাগা চৌধুরীবাড়ী গ্রামের মাইনুল হক হিটু, নাগা গ্রামের প্রভাত চন্দ মালো, একই গ্রামের শিশির আহম্মেদ খান, ওমর মিয়া, মিজানুর রহমান তালুকদার এবং পালিমা গ্রামের আলামিন ইসলাম। তাদেরকে গতকাল মঙ্গলবার টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানা পুলিশ ছেলেধরা সন্দেহে এক প্রতিবন্দ্বী মহিলার ওপর হামলার ঘটনায় ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে। এর আগে সোমবার রাতে এঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২ শতাধিক ব্যাক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদে ইন্টারনেট ব্রডব্যান্ড সংযোগ প্রদানকাজে নিয়োজিত এক টেকনিশিয়ানকে পীরগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি দেয়ার অভিযোগে কামাল হোসেন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ। আটক ব্যক্তি উপজেলার চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
