দশ মাসের শিশু শিফাকে দাদির কোলে রেখে পরীক্ষাকেন্দ্রে নির্ভার মনে বসে পরীক্ষা দিচ্ছেন এক তরুণী মা—তার নাম ঝর্ণা আক্তার। বয়স মাত্র ১৯ বছর। জীবনের প্রতিকূলতা তাকে দমাতে পারেনি। বাল্যবিয়ে, মাতৃত্ব—সবকিছুর মাঝেও তিনি এগিয়ে চলেছেন শিক্ষার আলো ছুঁয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার জোরদিঘী গ্রামের নববধূ ঝর্ণা এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজ কেন্দ্র থেকে। তিনি জোরদিঘী কারিগরি বিএম কলেজের শিক্ষার্থী। পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে তার শাশুড়ি স্বপ্না আক্তার কোলে ধরে রাখেন ছোট্ট নাতনি শিফাকে। মা যখন পরীক্ষায় ব্যস্ত, তখন দাদি সামলাচ্ছেন শিফার ঘুম, খাওয়া আর কান্নার দায়িত্ব।
ঝর্ণার বাবার বাড়ি সখীপুর উপজেলার বড়চওনা গ্রামে। পিতা আল আমিনের মেয়ে ঝর্ণা ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় আগ্রহী ছিলেন। তবে সামাজিক বাস্তবতা ও পারিবারিক চাপে অল্প বয়সেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয় তাকে। এরপরও থেমে যাননি। সংসার ও সন্তান সামলে শিক্ষার পথ থেকে একচুলও পেছাননি এই সাহসী তরুণী।
ঝর্ণার শাশুড়ি স্বপ্না আক্তার বলেন, “ঝর্ণার পড়াশোনার আগ্রহ দেখে আমরাও তাকে উৎসাহ দিই। সে মা হয়েও যেভাবে সংগ্রাম করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে, তা সত্যিই গর্বের বিষয়।”
পরীক্ষা শেষে ঝর্ণা বলেন, “বিয়ে হয়ে গেছে, মা হয়েছি—তাতে কী? আমি জানি, পড়ালেখা করলে একদিন ভালো কিছু করতে পারব। আমার স্বামী ও শাশুড়ি আমাকে অনেক সহযোগিতা করছেন, এজন্য আমি কৃতজ্ঞ।”
ঝর্ণার এই অদম্য মানসিকতা প্রমাণ করে, চাইলেই সম্ভব। একদিকে সংসার, অন্যদিকে সন্তান, তবু নিজেকে গড়ে তোলার স্বপ্নে ঝর্ণা আজ হাজারো নারীর জন্য এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণার নাম।
