বরিশাল বিসিকের উন্নয়নকাজের মেয়াদ শেষ, শুরুই হলো না

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৯, ২৩:৫৪

অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা দেশের সর্ববৃহত্ আয়তনের শিল্পনগরী বরিশাল বিসিকের উন্নয়ন কার্যক্রমে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। প্রায় ৭০ বছর আগে গড়ে তোলা এই ‘শিল্পনগরীর অনুন্নত এলাকার উন্নয়ন এবং উন্নত এলাকার অবকাঠামো মেরামত ও পুনর্নির্মাণ’ প্রকল্পে দেখা দিয়েছে চরম অব্যবস্থাপনা। নানান জটিলতা কাটিয়ে ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে এই প্রকল্পের অধীন ৫২ দশমিক ২০ কোটি টাকা একনেকে পাশ হয় এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে বলা হয়। পরবর্তীতে তত্কালীন সময়ের প্রকল্প পরিচালক সময় চেয়ে তা ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেন। বর্ধিত সময় অনুযায়ী পাঁচ মাস বাকি থাকলেও প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি। প্রকল্পের বর্তমান পরিচালক ও বরিশাল শিল্পনগরী কর্মকর্তা মো. খায়রুল বাশার জানান, তিনিও দুই বছর সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন। প্রকল্পের অধীন অনুন্নত এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে দাবি করে ঐ কর্মকর্তা বলেন, তিনি চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রকল্প কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়ে কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। তার দেওয়া তথ্যমতে, এই শিল্পনগরীতে বর্তমানে ৩৭৮টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে উত্পাদনরত রয়েছে ১৭৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। বাকি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাস্তবায়নাধীন, বরাদ্দকৃত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে বিসিকের উল্লেখযোগ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফরচুন সুজ লিমিটেড শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে অনেক আগ্রহী উদ্যোক্তা এগিয়ে আসছেন। অনুমোদনকৃত   ৫২ দশমিক ২০ কোটি টাকায় শিল্পনগরীর অফিস ভবনসহ অভ্যন্তরীণ রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট, পানির পাম্প ও পানি সরবরাহব্যবস্থার দ্রুত সংস্কার এবং অনুন্নত জমিতে মাটি ভরাট, রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট, বিদ্যুত্ ও সাব-মারসিবল পাম্পসহ পানি সরবরাহ করা হবে।

একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকেরা জানান, চরম অযত্ন আর অবহেলার পাশাপাশি বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বরিশাল বিসিক শিল্পনগরী এখন পরিত্যক্ত এলাকায় রূপ নিয়েছে। এখানকার ৫০টির বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ১০ হাজার শ্রমিক এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

বিসিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান অহিদ ইত্তেফাককে জানান, সরকার যত টাকাই বরাদ্দ দিক না কেন, বিসিকের অসাদু কর্মকর্তারা তা লোপাট করেন। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন ২০১৮ সালের মধ্যে বিসিকের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ এলেও অদ্যাবধি কাজ শুরুই হয়নি। তিনি সরকার ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, তাদের প্রত্যক্ষ তদারকি ছাড়া সব টাকা লোপাট হয়ে যাবে। বিসিকের কোনো উন্নয়ন হবে না।  ফরচুন সুজ লিমিটেডের ডিজিএম (প্রশাসন) মো. শহীদুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২ হাজার শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। কিন্তু বিদ্যুত্ বিপর্যয় ও রাস্তা বেহাল থাকায় অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বিদ্যুতের বিকল্প পাওয়ার প্লান্টে প্রতিবছর তাদের ৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে, যা এই প্রতিষ্ঠানের জন্য হুমকিস্বরূপ। যদি নিয়মিত বিদ্যুত্ সরবরাহ পাওয়া যেত, তাহলে তাদের এই বিশাল অঙ্ক গচ্ছা যেত না। তিনি বলেন, যথাসময়ে পণ্য ডেলিভারি দিতে গেলে বেহাল সড়কে তা সম্ভব হয় না। ছোটো গাড়িতে অল্প অল্প করে দীর্ঘ সময়ে তা সম্পন্ন করতে হয়।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে বিসিকের সড়কের বেহালদশা এবং চারদিকে ঝোপ-জঙ্গল দেখা যায়।