কাশ্মীর নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য প্রভাব ফেলতে পারে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৯, ২৩:৫৫

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কাশ্মীর ইস্যুতে মধ্যস্থতা করার অনুরোধ জানিয়েছেন—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ঘোষণায় চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে বিজেপি  সরকার। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই পার্লামেন্টে বিরোধীদলগুলো এই ইস্যুতে তুমুল হইচই শুরু করে। কিছুক্ষণের ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি কখনোই এমন অনুরোধ জানাননি এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতেই কাশ্মীর ইস্যুর সমাধানে ভারতের অবস্থানেও পরিবর্তন হয়নি। তবে ভারতের বিরোধীদলগুলো মোদির নিজের মুখ থেকেই এর ব্যাখ্যা শোনার দাবি জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্যে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হতে পারে।

বহু বছর ধরে দিল্লির অবস্থান হলো—কাশ্মীর প্রশ্নে কোনো তৃতীয় পক্ষ নাক গলাতে পারবে না। শুধু ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই এর সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। বাহাত্তরের সিমলা চুক্তি বা ১৯৯৯ সালের লাহোর ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত এই অবস্থান থেকে ভারতের কোনো সরকার সরে আসার ইঙ্গিত দেয়নি।  সোমবার হোয়াইট হাউজে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন ট্রাম্প। বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, দুই সপ্তাহ আগেই মোদির সঙ্গে দেখা হয়েছিল। আমরা এ বিষয়ে কথা বলেছিলাম। মোদি তখন বলেছিলেন, আপনি (ট্রাম্প) কি মধ্যস্থতাকারী হবেন? আমি বললাম, কীসের? তখন তিনি বললেন কাশ্মীর সমস্যা মেটানোর জন্য। কারণ এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। আমি খুব অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম কতদিন ধরে রয়েছে এই সমস্যা। ট্রাম্প যখন একথা বলছেন, তখন তার পাশে ছিলেন ইমরান খানও। ট্রাম্পের এই কথা শুনে ইমরান বললেন, ৭০ বছর ধরে এই সমস্যা রয়েছে।

এরপর ট্রাম্প আরো বলেন, আমার মনে হয়, উভয়েই (ভারত-পাকিস্তান) চায়, এ সমস্যার সমাধান হোক। আর আমি সাহায্য করতে পারি, আমি মধ্যস্থতাকারী হতে রাজি। ট্রাম্পের মন্তব্য শোনার পর ইমরান বলেন, যদি আপনি পারেন, তাহলে মধ্যস্থতা করে এ সমস্যার সমাধান করুন।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর গতকাল পার্লামেন্টে ব্যাপক শোরগোল করে বিরোধীরা। উপরাষ্ট্রপতি ভেঙ্কাইয়া নাইডু রাজ্যসভায় বলেন, আপনারা কি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বেশি বিশ্বাস করেন? দয়া করে একটা জাতীয় ইস্যুকে রাজনৈতিক রং দেবেন না। কিছুক্ষণ পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পার্লামেন্টে এক বিবৃতিতে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি কখনো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এরকম অনুরোধ জানাননি। জাপানের জি-২০ সম্মেলনে দুই নেতার মধ্যে একান্তে বৈঠক হয়েছে। এরপরও প্রধানমন্ত্রীর নিজের মুখ থেকে ব্যাখ্যা শোনার দাবিতে বিরোধীদলগুলো অটল রয়েছে। সরকারের সূত্র ইত্তেফাককে জানিয়েছে যে, ট্রাম্প-মোদি বৈঠকের রেকর্ডে কাশ্মীর ইস্যুতে আলোচনার কথা নেই। এ ঘটনার পর বিতর্ক সামাল দিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, কাশ্মীর একটি ‘দ্বিপাক্ষিক ইস্যু’ বলেই তারা মনে করে। এ ঘটনায় কংগ্রেসের অবস্থানের সমালোচনা করে বিজেপি বলেছে, বিরোধীরা জাতীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে টার্গেট করেছে।