রাজবাড়ীতে বিদ্যুৎ বিল সংগ্রহের নামে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) এক মিটার রিডার। অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তা মো. মোক্তার বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া বিল প্রদান করে শত শত গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন পলাতক।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মোক্তার বিশ্বাস গত প্রায় দেড় বছর ধরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ও শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নে দায়িত্ব পালনকালে গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল আদায় করতেন। তিনি ব্যাংকের ভুয়া সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে নকল বিলের কপি প্রদান করতেন।
অভিযোগের পাহাড়, ভোগান্তিতে সাধারণ গ্রাহক
গোয়ালন্দ মোড় এলাকার বাসিন্দা কোরবান গাজী জানান, “২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে মোক্তারের কাছে নিয়মিত বিল পরিশোধ করেছি। সে ব্যাংকের সিল মারা বিল দিত। কিন্তু হঠাৎ বিদ্যুৎ অফিস জানায় আমার নামে ১৫ মাসের ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে! এটা কীভাবে সম্ভব?”
একই অভিযোগ করেন শহীদ ওহাবপুরের জহিরুল ইসলাম। তার দাবি, “প্রতিমাসে বিলের টাকা দিয়েছি। কিন্তু হঠাৎ অফিস থেকে বলা হলো ২ লাখ ১২ হাজার টাকা বকেয়া। যেখানে তিন মাস বিল বাকি থাকলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়, সেখানে ১৫ মাসেও কিছু হয়নি—এটা থেকেই বোঝা যায় কর্মকর্তারা এর সঙ্গে জড়িত।”
ভ্যানচালক বাবুল শেখ বলেন, “আমি নিয়মিত বিল দিয়েছি। এখন হঠাৎ করে বলছে ৭৫ হাজার টাকা বকেয়া। এই টাকা আমি কোথা থেকে দেবো?”
জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ
ভুক্তভোগী অন্তত ৫০ জন গ্রাহক গত ২ জুলাই রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে উল্লেখ করা হয়, মোক্তার বিশ্বাস ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত সময়কালে অন্তত ৪০০ গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও আইনি অগ্রগতি
ওজোপাডিকোর রাজবাড়ী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন-অর-রশিদ বলেন, “গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে মোক্তারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।”
তবে রাজবাড়ী সদর থানার ওসি জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে একটি অসম্পূর্ণ অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে, যা ফিরিয়ে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, “আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছি।”
ভুক্তভোগীদের দাবি
ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে একটি সুষ্ঠু তদন্ত কমিটি গঠন, প্রতারণায় জড়িতদের শাস্তি, বিদ্যুৎ বিভাগের দায়ের স্বীকার, এবং প্রকৃত ভুক্তভোগীদের বিল মওকুফ করার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, “আমরা টাকা দিয়েছি, অথচ এখন লাখ টাকা বকেয়ার দায় আমাদের উপর চাপানো হচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।”
