জাতিসংঘের বিশেষ দূত

গাজায় হিরোশিমার চেয়ে ৬ গুণ শক্তিশালী বোমা ফেলেছে ইসরায়েল

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৫, ০৭:২৯

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল যে ভয়াবহ মাত্রায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের হিরোশিমার চেয়েও বহুগুণ বেশি ভয়ঙ্কর বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ। তিনি বলেন, ইসরাইল গাজায় ৮৫ হাজার টন বিস্ফোরক ফেলেছে—যার ধ্বংসক্ষমতা হিরোশিমায় ফেলা পারমাণবিক বোমার চেয়ে ছয় গুণ বেশি।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে ফিলিস্তিন পরিস্থিতি নিয়ে উপস্থাপিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে তিনি এ তথ্য দেন। আলজাজিরার বরাতে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

আলবানিজ বলেন, “গাজাকে ধ্বংস করতে ইসরায়েলকে অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করেছে বিভিন্ন অস্ত্র কোম্পানি। তারা এই যুদ্ধকে মুনাফার উৎসে পরিণত করেছে।”
তিনি তথাকথিত ‘গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন’-কে ‘একটি মৃত্যুফাঁদ’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, “এটি ক্ষুধার্ত ও অসহায় জনগণকে হত্যা বা গাজা ছেড়ে পালাতে বাধ্য করার জন্য পরিকল্পিতভাবে তৈরি।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় গত ২০ মাসে চালানো ইসরাইলি আগ্রাসনে প্রায় ৫৭ হাজার ১৩০ জন নিহত এবং এক লাখ ৩৪ হাজার ৫৯২ জন আহত হয়েছেন।
শুধু গত ২৪ ঘণ্টায়ই ১১৮ জন নিহত এবং ৫৮১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১২ জন ত্রাণপ্রার্থী রয়েছেন।

আলবানিজ বলেন, “তেল আবিব স্টক এক্সচেঞ্জে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২১৩ শতাংশ লাভ হয়েছে। এটি একটি বৈপরীত্য তুলে ধরে—একজন মানুষ মুছে গেছে, আর একজন মানুষ সমৃদ্ধ হয়েছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “গাজা এখন ইসরাইলি সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের জন্য একটি আদর্শ পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে। নতুন অস্ত্র, ড্রোন, নজরদারি ও রাডার সিস্টেম পরীক্ষা করা হচ্ছে এই যুদ্ধের মাধ্যমে।”

আলবানিজ অভিযোগ করেন, অন্তত ৪৮টি অস্ত্র প্রস্তুতকারী, ব্যাংক, জ্বালানি কোম্পানি, প্রযুক্তি সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয় ইসরাইলি দখলদার অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।জাতিসংঘের এই দূত বলেন, “জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উচিত ইসরাইলের ওপর পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা, সব বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক স্থগিত করা এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক অপরাধে সহযোগিতার দায়ে বিচারের মুখোমুখি করা।”

তিনি বলেন, “এই গণহত্যা এতটাই দৃশ্যমান এবং সরাসরি সম্প্রচারিত, যে অজ্ঞতা বা নিরপেক্ষতা দিয়ে এটিকে ব্যাখ্যা করা এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়।”
তার আহ্বান, “ট্রেড ইউনিয়ন, আইনজীবী, সুশীল সমাজ, সাধারণ নাগরিক এবং সরকারগুলোর উচিত নিষেধাজ্ঞা, বয়কট এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে অবস্থান নেওয়া।”

আলবানিজ তার বক্তব্যের শেষে বলেন, “মানবতা আজ চরম পরীক্ষা দিতে বসেছে। আমরা যদি মুখ ফিরিয়ে থাকি, ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।”

ইত্তেফাক/এএম