ফরিদপুরে এ কে আজাদের বাড়িতে চড়াও হলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৫, ১৪:১৪

আওয়ামী লীগের গোপন বৈঠকে চলছে- এমন অভিযোগ তুলে ফরিদপুর–৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে আজাদের বাড়িতে চড়াও হয়েছেন স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে একে আজাদের ঝিলটুলীস্থ বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

ওই সময় এ কে আজাদের বাড়িতে হা-মীম গ্রুপের ল্যান্ড অফিসার মো. রাফিজুল খান, গ্রুপের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. সোলাইমান হোসেন, সিকিউরিটি গার্ড মেহেদী হাসান ও ক্লিনার মো. হান্নান মিয়া অবস্থান করছিলেন।

তারা জানান, বিএনপির নেতৃবৃন্দ গেটে আঘাত করলে সিকিউরিটি গার্ড মেহেদী হাসান এগিয়ে গিয়ে গেট খুলে দেন। এসময় মহানগর বিএনপির তিন চারজন নেতাকর্মী বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়েন। ভেতরে ঢুকে তারা সিকিউরিটি গার্ডের কাছে জানতে চান, ‘এই বাড়িতে আওয়ামী লীগের কোনো গোপন সভা হচ্ছে কিনা’

সিকিউরিটি গার্ডের ‘না’ সূচক উত্তর শুনে তিনি বাড়ির বাইরে চলে আসেন। চলে আসার সময় হুমকি দিয়ে বলেন, ‘এরকম কোনো ঘটনা ঘটলে বাসায় আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেবো।’

প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসি টিভি ফুটেজ থেকে জানা যায়, এ. কে. আজাদের বাসা থেকে বের হয়ে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা পাশে ভূমি অফিসের সামনে জড়ো হন। পরে সেখানে প্রায় শতাধিক লোকের  সমাগম ঘটে। এরপর তারা মিছিল বের করেন। মিছিলে স্লোগান দেওয়া হয় ‘আওয়ামী লীগের দোসররা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘ফ্যাসিবাদের দোসররা হুঁশিয়ার সাবধান’।

মিছিলটি ভূমি অফিসের সামনে থেকে শুরু হয়ে অনাথের মোড় এলাকায় যায়। মিছিলটি পরে আবারও ফিরে এসে এ কে আজাদের ঝিলটুলীস্থ বাসভবনের দক্ষিণ পাশের সড়ক দিয়ে পশ্চিম দিকে চলে যায়।

সবশেষ মিছিলকারীরা শহরের কাঠপট্টি এলাকায় অবস্থিত জেলা বিএনপির অফিসের নিচে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। ওই সমাবেশে বক্তারা বলেন, ফরিদপুরে আর কোনো আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসিত করা যাবে না। যদি কেউ আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে চায়; তাহলে ফরিদপুরে আমরা বিএনপির সকল নেতাকর্মী মিলে তাদের প্রতিহত করব এবং প্রয়োজনে তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিব। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ বলেন, ‘আমরা জানতে পারি ঝিলটুলীতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার দোসররা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করার জন্য সভা করছে। সে খবর পেয়ে আমরা ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম ওখানে কোনো গোপন সভা হচ্ছে কিনা দেখার জন্য।’

দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকার পর একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ একজন সাবেক সংসদ সদস্যের  বাড়িতে চড়াও হয়ে এ কাজ করতে পারে কিনা জানতে চাইলে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত করার চেষ্টা করছে কেউ কেউ।’

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা বলেন, ‘আমি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছি। এ কে আজাদের বাড়িতে কিছু ঘটেছে কিনা আমার জানা নেই। আমাকে কেউ কিছু জানায়নি।’

ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে আমি খবর পাই এ. কে আজাদের বাড়িতে বিএনপির লোকজন গিয়েছে। এ খবর পাওয়ার পর দ্রুত সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, এ কে আজাদ হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং দৈনিক সমকাল ও চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর এর সত্ত্বাধিকারী। ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঈগল মার্কা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় এ কে আজাদকে জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পদ থেকে বহিষ্কার করে জেলা আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এ কে আজাদ।

ইত্তেফাক/এপি