সিরাজগঞ্জে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচামালের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। বাজারে ভিড় থাকলেও অনেকেই চাহিদামতো জিনিসপত্র কিনতে পারছেন না।
জেলা শহরের বড়বাজার, বাহিরগোলা, কাঠেরপুল, কালিবাড়ি, মাসুমপুর বউবাজারসহ প্রতিটি বাজারেই দেখা গেছে দাম বাড়ার চিত্র। বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০৫–১১০ টাকায়, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা, পেঁয়াজ ৫৫–৬০ টাকা, কাঁচা পেপে ৪০–৫০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, পটল ৩০–৪০ টাকা, লাউ ৬০–৭০ টাকা (আকারভেদে), মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, আর আদা বিক্রি হচ্ছে ৮০–১০০ টাকা কেজিতে।
শুধু সবজিই নয়, একইসঙ্গে বেড়েছে চাল, মাংস ও মুরগির দামও। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা কেজিতে, খাসির মাংস ১১০০–১২০০ টাকা কেজি এবং দেশি সোনালী মুরগির দাম ২৭০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে, যা আগে ছিল ২১০ টাকার মতো।
বাজারে আসা ক্রেতা রফিকুল ইসলাম ও রাম কুন্ডু বলেন, “কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রতিটি পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এখন কেজি দরে সবজি কেনাও কঠিন হয়ে গেছে।”
বাহিরগোলা বাজারের বিক্রেতা হামিদ জানান, আমরা হাট ও আড়ত থেকে সবজি কিনে আনি। সেখানেই দাম বেশি, তাই বাধ্য হয়েই বেশি দামে বিক্রি করছি।
ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ বলেন, “টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে অনেক সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। যমুনার পানি বৃদ্ধির কারণে অনেক এলাকায় সবজিক্ষেতে পানি ঢুকে সবজির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এছাড়াও বর্ষা মৌসুমে পরিবহনজনিত সমস্যায় পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এসব কারণে দাম বাড়ছে।”
তবে সচেতন মহলের দাবি, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সংকটকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে বাজারে কারসাজি করছে। ফলে প্রকৃতপক্ষে কিছু পণ্যের দাম যৌক্তিক কারণে বাড়লেও, অনেক ক্ষেত্রে অযৌক্তিকভাবে মূল্যবৃদ্ধি করা হচ্ছে।
সবমিলিয়ে সাধারণ ভোক্তারা দিশেহারা। খেটে খাওয়া মানুষজন বলছেন, “ভাতের পাতে সবজি জোটানোই কষ্টকর হয়ে গেছে।”
