সিলেটের ছাতক ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী সোনাই নদীতে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাবার ড্যামটি বালুখেকোদের বেপরোয়া তাণ্ডবে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।
জানা গেছে, প্রভাবশালী একটি বালু সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে রাবার ড্যাম সংলগ্ন এলাকাতেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এমনকি, তারা রাবার ড্যামের একেবারে কাছেই লিস্টার মেশিন বসিয়ে দিনে-রাতে বালু তুলে নিচ্ছে অবাধে। এতে করে রাবার ড্যামের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
কৃষির জন্য আশীর্বাদ, এখন হুমকি
বৈশাকান্দি-বাহাদুরপুর রাবার ড্যামের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকরা সোনাই নদীর পানি ব্যবহার করে প্রতি মৌসুমে বোরো ও রবিশস্য চাষ করেন। ড্যামটি চালু হওয়ার পর সাতশ একরেরও বেশি অনাবাদি জমিতে চাষাবাদ শুরু হয়েছিল। কিন্তু এখন সেটি হুমকির মুখে।
সোনাই নদী পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল জব্বার খোকন জানান, গত বছর অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে রাবার ড্যামে ছিদ্র হয়েছিল। এবারও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, “বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একাধিকবার থানায় অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি। বরং তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুললে নদীপথে চলাচলই কঠিন হয়ে যায়।”
বালুর ব্যবসায় সিন্ডিকেট চক্র
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈশাকান্দি-বাহাদুরপুর রাবার ড্যামের কাছ থেকে প্রতিদিন শতাধিক নৌকায় করে বালু উত্তোলন করা হয়। বালু উত্তোলনের জন্য সিন্ডিকেট সদস্যরা প্রতি ঘনফুট বালুর জন্য ১০ টাকা করে নেয়, আর যাঁরা নিজেকে জমির মালিক দাবি করেন, তাঁরা নিচ্ছেন অতিরিক্ত ৫ টাকা। এভাবে নদীর সম্পদ লুটে নিচ্ছে প্রভাবশালী মহল।
নদীর পাড়ে ঘরবাড়িও ঝুঁকিতে
বৈশাকান্দি গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আমির উদ্দিন জানান, “প্রতিদিন রাত ২টা থেকে ভোর পর্যন্ত চলে বালু তোলার কাজ। এখন নদীর দুই পাড়ে বসবাসকারী মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙনের মুখে।”
স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য ময়না মিয়া বলেন, প্রশাসনকে একাধিকবার মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে, কিন্তু অদৃশ্য কারণে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ রাবার ড্যামটি বর্তমানে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। স্থানীয় কৃষকদের ভাগ্য নির্ভর করছে এই ড্যামের ওপর, অথচ প্রশাসনিক জটিলতা ও প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় সেটিকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শুধু ড্যামই নয়, সোনাই নদীর পাশের জনপদও চরম বিপদের মুখে পড়বে।
প্রশাসনের ব্যাখ্যা
ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “এলাকাটি দুইটি উপজেলার মধ্যে পড়েছে, যার কারণে সীমানা নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে। অন্য উপজেলায় গিয়ে সরাসরি অভিযান চালানো আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।”
