সালথায় পানির তীব্র সংকটে পাট চাষে বিপর্যয়

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৫, ১৯:৩৮

পাট কাটার মৌসুম শুরু হলেও পানির তীব্র সংকটে বিপর্যস্ত ফরিদপুরের সালথা উপজেলার কৃষকরা। খাল-বিল, পুকুর কিংবা মাঠে কোথাও জাগ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত পানি নেই। ফলে দেশের অন্যতম পাট উৎপাদনকারী অঞ্চলটিতে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের কৃষি সংকট।

স্থানীয় চাষিরা জানাচ্ছেন, অনেকেই বাধ্য হয়ে নছিমন, ভ্যান বা মাথায় করে পাট বহন করে দূরবর্তী কুমার নদে নিয়ে গিয়ে জাগ দিচ্ছেন। এতে সময়, শ্রম ও খরচ বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুণ। পাশাপাশি, সঠিক পানির অভাবে পাটের আঁশের রং ও গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারদরে।

চাষি উজ্জ্বল মোল্যা বলেন, 'খাল-বিল শুকিয়ে গেছে, পুকুরেও পানি নেই। ভালো পানি ছাড়া পাটের রং হয় না। তাই পাশের গ্রামের গাঙ্গে নিয়ে গিয়ে জাগ দিচ্ছি। স্লুইচগেট খুলে দিলে আমরা অনেকটা উপকৃত হতাম।'

আরেক চাষি হাসান বলেন, 'বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে ছিল, এখন আবার শুকনো। ভ্যানে করে পাট নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে খরচ বাড়ছে, আঁশের মানও কমছে।' 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুদর্শন সিকদার জানান, চলতি মৌসুমে সালথায় ১৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও পানির অভাবে চাষিরা সমস্যায় পড়েছেন। ফরিদপুর শহর রক্ষা বাঁধের স্লুইচগেট খুলে দিলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।

চাষিরা বলছেন, বীজ, সার, শ্রমিক—সবকিছুর দাম বাড়ার পর যদি পাটেরও সঠিক মূল্য না মেলে, তবে তাদের লোকসান ঠেকানো কঠিন হবে। তারা দ্রুত স্লুইচগেট খুলে দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দাবি করছেন।

ইত্তেফাক/আইএ