নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার নির্বাচন আগামীকাল। গতকাল শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় চালান মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যান তারা। উত্সবে পরিণত হয়েছে নির্বাচন। ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে।
মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী একজন, বিএনপি থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তিন জন, সংরক্ষিত আসনে মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী ছয় জন এবং ৯টি কাউন্সিলর পদের জন্য ৩১ জন প্রার্থী রয়েছেন। প্রত্যেকেই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় গতকাল শেষ সময়ের গণসংযোগ চালান। রাজউকের পূর্বাচল উপশহরের পূর্ব সীমানায় কাঞ্চন পৌরসভার আবস্থান হওয়ায় এর গুরুত্ব অনেক বেশি।
এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ মো. রফিকুল ইসলাম (নৌকা), কাঞ্চন পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান মেয়র দেওয়ান আবুল বাশার বাদশা (নারিকেলগাছ), রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আলহাজ মজিবুর রহমান ভুঁইয়া (জগ) ও নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আমিরুল ইসলাম ইমন (মোবাইল ফোন) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গতকাল কাঞ্চন পৌরসভা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে কাঞ্চন। দোকানপাট, হাটবাজার ও চায়ের দোকানে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ—কে হবেন পৌরপিতা।
আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচিত হলে কাঞ্চন পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করব। মাদক, সন্ত্রাস নির্মূল, শিক্ষা, বিদ্যুত্, গ্যাস, চিকিত্সা প্রদান, পানি সরবরাহসহ সার্বিক উন্নয়নে সচেষ্ট হব।’ স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান আবুল বাশার বাদশা বলেন, ‘পুনরায় নির্বাচিত হলে কাঞ্চনকে অত্যাধুনিক পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলব।’ আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ মজিবুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য কাজ করব।’ স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. আমিরুল ইসলাম ইমন বলেন, ‘মাদক নির্মূলে সচেষ্ট হব এবং যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব।’
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার বলেন, কাঞ্চন পৌরসভার মোট ভোটার রয়েছেন ৩৫ হাজার ৬৭৫ জন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম বলেন, কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, নির্বাচনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নজরে থাকবে। নির্বাচন কেউ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে কঠোরভাবে দমন করা হবে।
ইভিএমে ভোট প্রদানের মহড়া
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ১৭টি ভোটকেন্দ্রের ১১৮টি বুথের প্রতিটিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট প্রদানের মহড়া চলে। এই মহড়ায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাররা ভোট প্রদান করেন। মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলর পদে ক, খ, গ, ঘ প্রতীকে তিনটি ব্যালটে তারা ভোট প্রদান করেন।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া বলেন, ভোটকেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়া, কেন্দ্র দখল করে ভোট প্রদান, একজনের ভোট অন্যে প্রদান, দ্বিতীয়বার কিংবা মৃত ব্যক্তির ভোট প্রদান—এর কোনোটিই ইভিএমে সম্ভব নয়। এছাড়া ভোট গ্রহণের পরপরই ফলাফল প্রকাশ করা সহজ।
তারইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, ইভিএমে ভোট গ্রহণের মহড়ায় ভোটারদের মধ্যে বেশ সাড়া পাওয়া গেছে। ভোটাররা উত্সাহ-উদ্দীপনায় ভোট প্রদান করেন। দিন শেষে ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, এই মক ভোটিংয়ে (ভোটের মহড়া) ভোট প্রদানের নিয়ম-কানুন ও বাস্তবতা শেখানো হয়েছে। ইভিএম পদ্ধতি কাঞ্চনে নতুন হলেও মহড়ায় ভোটাররা ভোট প্রদানের নিয়ম-কানুন জেনে গেছেন।
