ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের জারিকৃত প্রজ্ঞাপন কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। দশ দিনের মধ্যে বিবাদিদেরকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এক আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।
ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে গত ১৬ মে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঐ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঋণখেলাপিরা মাত্র দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়েই ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারবেন। পুনঃতফসিল হওয়া ঋণ পরিশোধে তারা সময় পাবেন টানা দশ বছর। এক্ষেত্রে প্রথম এক বছর কোনো কিস্তি দিতে হবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে সম্পূরক আবেদন করেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। গত ২১ মে হাইকোর্ট ঐ প্রজ্ঞাপনের ওপর স্থিতিবস্থা জারি করে। আদালত বলে, ঐ প্রজ্ঞাপন ‘দুষ্টের পালন, শিষ্টের দমন’ এর মতো। হাজার হাজার কোটি টাকা লোন নিয়ে যারা ব্যাংক লুট করে ফেলল তাদেরকেই যেন আবার দুধ-কলা দিয়ে পোষা হচ্ছে। এই সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে ব্যাংক থেকে আরো ১ লাখ কোটি টাকা নিয়ে যাবে। হাইকোর্টের এই স্থিতিবস্থার আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। গত ৮ জুলাই আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেয়। একইসঙ্গে দুই মাসের মধ্যে যারা এই বিশেষ সুবিধা ভোগ করবেন তারা ব্যাংক থেকে নতুন কোনো ঋণ পাবেন না বলে উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে পাঠায় আপিল বিভাগ।
গতকাল ঐ বেঞ্চে প্রজ্ঞাপনের ওপর রুল জারির আবেদন জানান রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে মো. মনিরুজ্জামান শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করে। মনজিল মোরসেদ বলেন, হাইকোর্ট প্রজ্ঞাপনের ওপর স্থিতিবস্থা জারি করেছিল। আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এখন রুল জারি করেছে। দুটি রুলের শুনানি এই বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে।
