১৩ বছরের প্রতিবন্ধী জুনাইদের জীবন চলছে হামাগুড়িতে

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৫, ১৭:৩৩

জন্ম থেকেই শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। ১৩ বছর পেরিয়ে গেছে, এখনও একটি হুইলচেয়ারের নাগাল পায়নি জুনাইদ। কথা বলতে পারে না, হাত-পা সোজা হয় না। হামাগুড়ি দিয়ে মাটিতে চলাচলই তার একমাত্র ভরসা। প্লাস্টিকের চেয়ারে বসিয়ে দিলে বসে থাকে—এই শিশুটির জীবন যেন মাটিতেই গড়ে উঠেছে।

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার নিশুনিয়াকান্দা গ্রামের হতদরিদ্র একটি পরিবারে জন্ম জুনাইদের। বাবা তোফায়েল আলম দিনমজুর, মা লিপি আক্তার গৃহিণী। পরিবারটির পক্ষে উন্নত চিকিৎসা তো দূরের কথা, একটি হুইলচেয়ার কেনার সামর্থ্যও নেই।

জানা যায়, হাতের কব্জিতে একসময় কোনো শক্তিই ছিল না জুনাইদের। তবে এক সহৃদয় ব্যক্তির সহায়তায় অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, অর্থোপেডিক, ট্রমা ও আর্থ্রোস্কপিক সার্জন ডা. আবু আওয়াল শামীমের পরামর্শে চিকিৎসা শুরু হয়। তিনি জুনাইদকে ঢাকার প্রতিবন্ধী হাসপাতালে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। কিন্তু অর্থাভাবে ঢাকায় যাওয়া হয়নি। ওই সহৃদয় ব্যক্তি কেনা কিছু ওষুধ খাওয়ানোর পর জুনাইদের হাতের কব্জি ও আঙুলে কিছুটা শক্তি ফিরে এসেছে। এখন সে সামান্য কিছু ধরতে পারে, যা আগে সম্ভব ছিল না।

জুনাইদ তার বাবা-মার প্রথম সন্তান। অর্থ না থাকলেও সন্তানকে ঘিরে রয়েছে তাদের অফুরন্ত মমতা ও ভালোবাসা। প্রতিদিন নিজের হাতে খাইয়ে দেওয়া, গোসল করানো, বাথরুম করানো—সব কিছুই করেন বাবা-মা। রাতে পাশে শুইয়ে রাখেন সন্তানের মতো নয়, যেন রাজপুত্রকে।

একইসঙ্গে কষ্ট আর ভালোবাসায় গড়া জুনাইদের জীবন এখন সমাজ ও সরকারের সহানুভূতির অপেক্ষায়।

ইত্তেফাক/এএইচপি