স্বীকার করলেন না কেউ, কুমিল্লার ভাইরাল ধর্ষণ কাণ্ডে নতুন মোড়

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৫, ০৯:১৬

কুমিল্লার মুরাদনগরে নারী নির্যাতন ও ভিডিও ভাইরাল কাণ্ডে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার চার যুবককে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তারা ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকলেও কেউই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হননি।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন আদালতের পরিদর্শক সাদেকুর রহমান।

পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) কুমিল্লার আমলী আদালত-১১ এর বিচারক মমিনুল হক রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে নেওয়া চারজন হলেন—মুরাদনগরের জাফর আলীর ছেলে রমজান, আব্দুল হান্নানের ছেলে মো. সুমন, মো. আলমের ছেলে মো. আরিফ ও তালেম হোসেনের ছেলে মো. অনিক।

এর আগে, গত ২৬ জুন রাতে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে একই এলাকার ফজর আলীর বিরুদ্ধে। ওই সময় গ্রেপ্তার চার আসামি নারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে। ভিডিওটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

এই ঘটনার দুই দিন পর নির্যাতিত নারী মুরাদনগর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় চার যুবককে। অপরদিকে ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত ফজর আলীকে একই সময় গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশ পাহারায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, “রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে চার আসামি কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেও তারা কেউই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি।”

এই মামলার আরও এক আসামি শাহ পরান—যিনি ধর্ষণ মামলার আসামি ফজর আলীর আপন ছোট ভাই—তার রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বুধবার (১০ জুলাই)।

ইত্তেফাক/এএইচপি