জাপানের টোকিও মেডিকেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে এক নারী রোগীর জরায়ুতে লেজার সার্জারির সময় ঘটেছে বিস্ময়কর এক দুর্ঘটনা। অস্ত্রোপচারের মাঝখানে হঠাৎ তার অন্ত্র থেকে নির্গত বায়ু আগুনের সূত্রপাত ঘটায়। সেই আগুনে পুড়ে যায় তার একটি পা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি এতটাই অস্বাভাবিক ও বিরল যে, এটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
প্রায় ত্রিশ বছর বয়সী ওই নারী রোগীকে জরায়ুর একটি সমস্যার জন্য লেজার সার্জারি করানো হচ্ছিল। চিকিৎসকরা জানান, সার্জারির একপর্যায়ে রোগী হঠাৎ হালকা বায়ু ত্যাগ করেন। তখনই অপারেশন থিয়েটারে চলমান লেজারের তাপে সেই গ্যাস দাহ্য হয়ে বিস্ফোরণের সৃষ্টি করে। আগুন লেগে যায় অস্ত্রোপচারের কাপড়ে, যা দ্রুত রোগীর পায়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং দগ্ধ করে দেয়।
টোকিও মেডিকেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি ঠিকঠাক কাজ করছিল। রোগীর অন্ত্র থেকে নির্গত গ্যাস ও লেজারের বিকিরণের সম্মিলনে আগুনের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয় যে, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার জন্য অস্ত্রোপচারের কাপড় ও পরিবেশ দায়ী ছিল।
তবে দায় এড়াতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, চিকিৎসা পদ্ধতি ও সরঞ্জামের কোনো ত্রুটি ছিল না। বরং তারা এই ঘটনার জন্য রোগীর অন্ত্র থেকে নির্গত গ্যাসকেই ‘প্রধান কারণ’ হিসেবে উল্লেখ করছে।
মার্কিন লেনক্স হিল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ড. রবার্ট গ্ল্যাটার মনে করেন, এমন ঘটনা অতিমাত্রায় বিরল হলেও তা পুরোপুরি অসম্ভব নয়। তিনি বলেন, 'এখানে কেবল অন্ত্রের গ্যাস নয়, বরং অপারেশনের আগে ব্যবহৃত অ্যালকোহলভিত্তিক অ্যান্টিসেপটিক দ্রব্যগুলো যদি পুরোপুরি না শুকায়, তাতেও আগুন লাগার সম্ভাবনা থাকে।'
ঘটনাটি জানাজানি হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় হাস্যরস। নিউইয়র্কের বাসিন্দা আর্থার ব্রডস্কি টুইট করেন, 'এটা যেন কার্টুনের কোনো দৃশ্য—বাস্তবে ঘটেছে ভাবাই যায় না!' স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের অ্যাঞ্জেলিনা থমাসের মন্তব্য, 'অপারেশনের সময় মৃত্যু ভয়ংকর, কিন্তু যদি সেটা বায়ুত্যাগের কারণে হয়—তাহলে তা দুঃস্বপ্নের চেয়েও ভয়ংকর!'
নিউ জার্সির আরেক বাসিন্দা ডেমিয়ান হ্যান্ডজি বিষয়টিকে একেবারে হালকা করে নিয়ে বলেন, 'এখনকার দিনে যা কিছু ঘটছে, এরকম ঘটনা আর অবাক করে না। বরং এটা ভবিষ্যতে গল্প বলার জন্য ভালো একটা কাহিনি হয়ে থাকল।'
অনেকে আবার মজা করে বলছেন, 'লেজার সার্জারির আগে শুধু উপোস থাকলেই হবে না, পেট পুরোপুরি ফাঁকা করেই যেতে হবে!'
যদিও ঘটনা বিরল, তবে এটি সার্জারির সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে যত উন্নত প্রযুক্তিই আসুক, মানবদেহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া কখনো কখনো অপ্রত্যাশিত বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

